নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শেখ হাসিনা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০০:১২ , জুলাই ১২ , ২০১৯

সংসদীয় কমিটির বৈঠক

দলের মধ্যে কোন্দল ও দ্বন্দ্বে সম্পৃক্ত এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব সংসদ সদস্য নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন, তারা আগামীতে দলের মনোনয়ন পাবেন না। নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয়ে এলাকায় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় তিনি এসব কথা বলেন বলে একাধিক সংসদ সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

দলের মধ্যে কোনও ধরনের কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত না হওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘কোনোভাবেই কোন্দল বা দ্বন্দ্বে জড়িত হবেন না।’ 

এসময় সাবেক এক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। বিরোধিতা করতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। যে যত বড় নেতাই হোন না কেন, দলের বিরোধিতা কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড়া হবে না। অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজ নির্বাচনি এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি তাগিদ দিয়ে পতিনি আরও বলেন, ‘যার যার এলাকায় যান, দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন, নেতা-কর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন।’

প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় দলের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘যেসব জেলা বা উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই, দ্রুত সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করতে হবে।’ এ ব্যাপারে তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন।

সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় আছি নির্ভার থাকলে চলবে না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টেও আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। তখন কেউ ভাবেনি ১৫ আগস্টের মতো বর্বরোচিত  ঘটনা ঘটবে। 

বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত যেসব এমপিরা নিজের এলাকাকে নিজের আসন মনে করে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে লেগেছেন, তাদের বলছি, আপনাদের দায়িত্ব নারী উন্নয়নে কাজ করুন। ভাবার কোনও কারণ নাই যে, আগামী সময়ে আবারও সংসদ সদস্য করা হবে। দুই বার কেউ সংসদ সদস্য হবেন না। আওয়ামী লীগে অনেক নেতাকর্মীর দল। যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়ে এখনো ন্যাম ভবনের বাসা ছাড়েননি, তাদের দ্রুত বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই সময়ে চিফ হুইপ নূর- ই আলম চৌধুরী সংসদ সদস্যদের বকেয়া চাঁদার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এখনও চাঁদা পরিশোধ করেননি তারা পরিশোধ করে ফেলবেন আশা করি। অন্যথায় শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধার কাগজ আটকে দেওয়া হবে।’

নিয়ম রয়েছে দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিমাসে তিন হাজার করে সংসদীয় দলের তহবিলে টাকা দেবেন। এ সময় হিসেব চাইলে নূর-ই আলম জানান, এখনও এক কোটি টাকা চাঁদা বাকি রয়েছে। বরিশাল বিভাগের কেউই এই চাঁদা পরিশোধ করেননি বলে জানান সংসদীয় দলের সম্পাদক লিটন।

সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সব সংসদ সদস্যকে সময়মতো অধিবেশনে হাজির হতে এবং অযথা সংসদ লবিতে সময় না কাটাতে বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সচিবালয়ে ঘোরাঘোরি করতেও বারণ করেছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

 

/ইএইচএস/এএইচ/

x