বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: লাইভ মনিটরিংয়ে ‘সফলতা’ দেখছে ডিএসসিসি

শাহেদ শফিক ০৭:৫৮ , আগস্ট ১৪ , ২০১৯

কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি মনিটরিং করছেন মেয়র সাঈদ খোকন গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা লাইভ মনিটরিং (সরাসরি পর্যবেক্ষণ) করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজস্ব কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে এ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। নগর ভবনের সভাকক্ষে স্থাপিত ওই কন্ট্রোল রুমে বসেই সংস্থার মেয়র ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বর্জ্য অপসারণ কাজ মনিটরিং করেন। সংস্থাটি বলছে, এ কারণেই তারা পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যেই নগরী থেকে ‘বিপুল পরিমাণ’ বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কমবেশি সাড়ে তিন লাখ কোরবানির পশু জবাই হয়েছে। ডিএসসিসি মনে করছে এ থেকে প্রায় ২১ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হবে। সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত ১৬ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংস্থাটির মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নিয়ে রাখা হয়েছে। এ কাজে খোলা ট্রাক, কন্টেইনার বক্স, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ডাম্পার ট্রাক, কম্পেক্টর, পে-লোডার, পানির গাড়ি ও টায়ার ডোজারসহ ৩৮২টি যান-যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি ৯ হাজার ৪৯৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করেছেন। 

এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও তাদের পরিদর্শকদের তদারকির জন্য ডিএসসিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ তাদের নিজস্ব কন্ট্রোলিং সিস্টেম ব্যবহার করেছে। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় নগরীর ধোলাইপাড় এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কাজ উদ্বোধন করে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নগর ভবনের কন্ট্রোল রুমে চলে আসেন। সেখান থেকে সারা রাত তিনি নিজেই পুরো বিষয়টি তদারকি করেন।

কর্মকর্তারা জানান, কন্ট্রোল রুমে থেকে মেয়র সাঈদ খোকন কিছুক্ষণ পর পর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট সিআই (কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর) বা কাউন্সিলরকে ফেসবুক লাইভ বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে অন্তর্ভুক্ত করে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করেন। এছাড়া মোটরসাইকেল বা নিজস্ব যানবাহনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের লাইভে (সরাসরি) কন্ট্রোল রুমকে তার এলাকার পরিস্থিতি দেখাতে হয়েছে। আর এভাবেই দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তার এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজ মনিটরিং করেছে।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, একসময় নগরীতে কোরবানির পশুর উৎপাদিত বর্জ্য তিন থেকে চারদিন পরেও অপসারণ করা সম্ভব হতো না। তখন এ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ফাঁকিবাজিসহ কাজে নানা অবহেলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করার কারণে সকল অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হয়েছে। কর্মীদের ফাঁকিবাজি বন্ধ করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজে মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে লাইভ মনিটরিংয়ের পাশাপাশি কোরবানি পশুর বর্জ্য সংশ্লিষ্ট যেকোনও অভিযোগ জানানো বা সহযোগিতা পেতে হটলাইনও চালু রেখেছে ডিএসসিসি। গত দুই দিন ডিএসসিসি নির্ধারিত ০৯৬১১০০০৯৯৯ এই হটলাইনে ২১৬ জন নাগরিক ফোন করেছেন। তার মধ্যে ৪৫ জন নাগরিক কোরবানি বর্জ্য অপসারণ সংশ্লিষ্ট সেবা চেয়েছেন। সিটি করপোরেশন তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে সেই সেবা নিশ্চিত করে সেবাপ্রার্থীকে তা আবার অবহিত করেছে।

জানতে চাইলে সংস্থার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এক সময় কোরবানি পশুর বর্জ্য তিন থেকে চার দিনেই অপসারণ করা সম্ভব হতো না। গত কয়েক বছর ধরে আমরা কোরবানি ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা লাইভ মনিটরিং করে আসছি। আমি নিজেই কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি প্রতিটি ওয়ার্ডের কাজ তদারকি করেছি।  আমাদের প্রতিটি কর্মী কাজ করেছেন। অবহেলা বা ফাঁকিবাজির কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি। এই মনিটরিং ব্যবস্থায় যখন যাকে লাইভে আসতে বলা হয়েছে তিনি এসে নিজের এলাকায় ভিডিওর মাধ্যমে আমাদের দেখিয়েছেন।

/টিএন/

x