ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার তাগাদা জয়শঙ্করের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:৩১ , আগস্ট ২০ , ২০১৯

ভারতের দেওয়া অর্থ দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুরোধ করেছেন দেশটির সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে এই অনুরোধ জানান তিনি। দিল্লির সঙ্গে এ বিষয়ে ২০১৭ সালে ৫০ কোটি ডলারের লাইন অব ক্রেডিট চুক্তি স্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বৈঠকের পর নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আব্দুল মোমেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য আমাদের ৫০ কোটি ডলারের ক্রেডিট লাইন দিয়েছে। তবে আমরা এখনও কোনও জিনিস (সরঞ্জাম) কিনিনি। তারা বলছেন, আমরা দিয়েছি, আপনারা এটি ব্যবহার করেন।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনোই ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনিনি। সে জন্য কী কিনবো এটি চিহ্নিত করতে সময় লাগছে। কিন্তু এটি করা হবে।’

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, সীমান্ত হত্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর, পানিবণ্টন, তিস্তা, স্কাই মার্শাল, জ্বালানি, মহীসোপানসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আসামের এনআরসি এবং কাশ্মির ইস্যু নিয়ে কোনও কথা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে তারা আমাদের কোনও প্রশ্ন করেনি বা কোনও কিছু বলেনি। আমাদের অবস্থান হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত ভালো করছে। আমাদের দেশের লোক অবৈধভাবে বিদেশে যাবে কেন, বরং অন্য দেশের লোক এখানে আসবে।’

কাশ্মির নিয়ে কথা হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি কাশ্মির বিষয়টি ভারতের নিজস্ব ইস্যু।’

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনী) নিয়ে আলোচনা করেছি। সীমান্তে এখনও বাংলাদেশিরা মারা যাচ্ছে, সেটি আমরা তুলে ধরেছি।’

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানানো হয়েছে, আমরা সীমান্তে কোনও হত্যাকাণ্ড চাই না। এ বিষয়ে ভারতের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তবু এটি হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিষয়টি জয়শঙ্কর দেখবেন বলে জানান মোমেন।

নদীর পানিবণ্টন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেছেন, তিস্তার বিষয়ে ভারতের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিস্তার অবশ্যই সমাধান হবে। তবে এর কোনও সময়সীমা নেই।

৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অববাহিকার মানুষের উপকার হয় এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে এ মাসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সাতটি নদীর বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মোমেন। তিনি বলেন, ‘এগুলোর অনেকগুলো বর্ডার ডিমার্কেশন নদী। এরমধ্যে দুই-একটি নিয়ে সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তবে ভালো খবর হচ্ছে অন্যান্য নদী যেমন ইছামতি, কালিন্দি, হাড়িভাঙ্গা, সোনাই, কুশিয়ারা এগুলোর সমস্যা দূর হওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মহীসোপান
মহীসোপান নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,  এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে। আমরা এটি মিটিয়ে ফেলবো।’

তিনি বলেন, ‘ভারত রাজি হলে আমরা দু’জনেই আমাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করবো, এ বিষয়ে আমরা সমঝোতায় এসেছি।’

শুল্ক মওকুফ
ভারতের সহযোগিতায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে ওইসব প্রকল্পে ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফ চেয়েছে ভারত।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি এটি এনবিআর (রাজস্ব বোর্ড) পরীক্ষা করছে। তারা আপনাদের জানাবে।’

স্কাই মার্শাল
বাংলাদেশে আগমনরত বিমানে স্কাই মার্শাল চালু করতে চায় ভারত। এ বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘তারা নিরাপত্তার জন্য স্কাই মার্শাল চালু করার কথা বলছে। আমরা বলেছি, আমরা বিষয়টি দেখবো।’

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর
মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে যাবেন এবং তখন কী বিষয় নিয়ে কথা হবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় আমরা অনেক চুক্তি সই করতে চাই। কিছু প্রস্তাব আমরা দিয়েছি এবং কিছু প্রস্তাব তারা দিয়েছে। দুই পক্ষেরই সমান সমান প্রস্তাব আটকে আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটি দ্রুত সমাধানের জন্য।’

বাণিজ্য ঘাটতি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি এবং এটি কমানোর বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের রফতানির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য জয়শঙ্কর এখানে ভারতের ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন,  ‘এখানে ভারতীয়রা শিল্প গড়ে তুলবে এবং ভারতে রফতানি করবে, এর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।’

মোমেন বলেন, কিছু খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে তাদের অবজেকশন আছে এবং আমরা সেটি প্রত্যাহার করতে বলেছি। আমরা ২৭টি খাদ্যপণ্যের তালিকা দিয়েছিলাম এবং এরমধ্যে তারা ২০টি পণ্য গ্রহণ করেছে, বাকিগুলো করেনি।

মন্ত্রী বলেন, রাবার রফতানির ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা প্রতিবন্ধকতা দিয়েছে এবং আমরা বলেছি এই প্রতিবন্ধকতা তুলে নেওয়ার জন্য।

 

/এসএসজেড/টিটি/টিএন/এমওএফ/

x