মিল্কভিটায় অনিয়মই ছিল নিয়ম: সংসদীয় কমিটি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০০:৫৩ , নভেম্বর ১০ , ২০১৯

 দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মিল্ককভিাটায় অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছিল। সরকারি এই সমবায় প্রতিষ্ঠানটির এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নানা অপকর্ম চলে আসছিল। যার কারণে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে, অতি সম্প্রতি চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা শনিবার (৯ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিল্কিভিটার উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের আগে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার রেস্ট হাউজে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যদের মধ্যে কমিটির সদস্য ইসমত আরা সাদেক ও মুহিবুর রহমান মানিক অংশ নেন। বৈঠকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব, সমবায় অধিদফতরের মহাপরিচালক, মিল্কভিটার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মিল্কভিটার কার্যক্রম বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরেই একটা অনিয়ম চলে আসছিল। এই প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ১০ বছর আগে সরকারের যে প্রতিনিধিরা ছিলেন তারা অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করেছিলেন। তবে এখন যিনি চেয়ারম্যান হিসেবে এসেছেন তিনি খুবই দক্ষ ও আন্তরিক মনে হয়েছে। তিনি তার সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। খামারিরাও তার কার্যক্রমে খুশি। সব মিলিয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। আমাদের মনে হয়েছে তারা লসে থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মিল্কভিটা দৈনিক এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করছে। এটি দুই লাখ লিটারে নিতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এখানে গুড়ো দুধ তৈরির একটা প্ল্যান্ট হচ্ছে, সেজন্য দৈনিক সাড়ে তিন লাখ লিটার দুধের দরকার হবে। সেই বিবেচনায় তারা দুধ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রশ্নে কমিটির সভাপতি বলেন, আমাদের আগের কমিটির বৈঠকেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। এরই আলোকে তারা কিছু লোককে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মিল্কভিটার কোনও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কমিটি সুপারিশ করেছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেখানে গোচারণ ভূমি তৈরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন:
মিল্কভিটাকে বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দ দেওয়া জমির ৮০ ভাগই বেদখল

মিল্কভিটায় গরুর জন্য বরাদ্দ ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

 

/ইএইচএস/টিটি/

x