সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের ল্যাপটপ-কম্পিউটার কেন টার্গেট?

নুরুজ্জামান লাবু ০১:৪৫ , ডিসেম্বর ০৮ , ২০১৭

সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান (ফাইল ছবি)সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার কোনও সন্ধান পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছেন। তাদের কাছে কেবল ক্লু হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। যাতে নিখোঁজ হওয়ার পর সুঠামদেহী যে তিন যুবক তার বাসায় গিয়ে ল্যাপটপ-কম্পিউটার নিয়ে গেছে, তাদের অস্পষ্ট ছবি রয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে সেই অস্পষ্ট ছবিগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন অনুসন্ধানকারী পুলিশ কর্মকর্তারা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসে আসলে কী ছিল? অজ্ঞাতপরিচয় যুবকরা কৌশলে তার বাসায় ঢুকে কেনই বা এসব  নিয়ে গেলো?

এই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তবে ভিডিও ফুটেজে তিন ব্যক্তির অস্পষ্ট চেহারা ছাড়া আর কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি।’ 

মারুফ জামানের পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, তাকে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র তুলে নিয়ে গেছে। তাদের লোকজনই বাসায় এসে কম্পিউটার-ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। কিন্তু মারুফ জামানের ল্যাপটপ-কম্পিউটারে এমন কী রয়েছে? নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূতের ছোট ভাই রিফাত জামান বলেন, ‘আমার ভাই কোনও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত নন। আমরা ধারণা করতে পারছি না কী হচ্ছে। আমরা শুধু তার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছি।’

গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের ৮৯ নম্বর বাসা থেকে প্রাইভেটকারযোগে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা দেন মারুফ জামান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মেয়ে সামিহা জামান বিদেশ থেকে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। মেয়েকে আনতেই তিনি বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বিমানবন্দরেও যাননি। ওইদিন রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার, তিনটি ক্যামেরা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় তিন ব্যক্তি তার শোবার ঘরে তল্লাশিও চালায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মেয়ে সামিহা জামান ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেউ যখন ল্যাপটপ-কম্পিউটারকে টার্গেট করে তখন বুঝতে হবে তারা নির্দিষ্ট কোনও বিষয় খুঁজছে। মারুফ জামানের কোনও কর্মকান্ডকে তারা সন্দেহ করছে। এ কারণেই তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কৌশলে ওই চক্রের সদস্যরা তার বাসায় গিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া সন্দেহজনক। এর আগেও বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কোনও গোষ্ঠী নির্দিষ্ট কোনও বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্য খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসের কোনও যোগসূত্র আছে বলে মনে হচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা শুধু কম্পিউটার নেবে না। তারা টাকা-পয়সা নেবে বা অর্থ দাবি করবে।’

 

/এএম/

x