প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে জনতার রোষানলে পুলিশ কনস্টেবল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:১৬ , জানুয়ারি ১২ , ২০১৮

কনস্টেবল আরিফুলকে ঘিরে জনতার ভিড়পুলিশ কনস্টেবলের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে একটি প্রাইভেটকারের। সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল থেকে নেমে প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর শুরু করেন তিনি। মারধর করেন প্রাইভেটকার আরোহী চার তরুণকে। খোলা রাস্তায় পুলিশ সদস্যের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সাধারণ জনগণ। অনেকটা মারমুখী হয়ে এ পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরেন তারা। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যরা ওই কনস্টেবলসহ মারধরের শিকার তরুণদের উদ্ধার করেন।

 শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই পুলিশ সদস্যদের নাম মো. আরিফুল (২২)। তিনি গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। আর মারধরের শিকার চার তরুণ হলেন রাগিব (১৮), নাহিন (১৬), আহনাফ মাহাদী (১৬) ও আজমাইল ইসলাম (১৮)।

ঘটনার বিবরণে প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও আদাবর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাগিব ও তার চার বন্ধু একটি প্রাইভেটকারে বনানী যাচ্ছিলেন। চালকের আসনে ছিলেন রাগিব। গাড়িটি মোহাম্মদপুর রিং রোডের বিডিআর সোপের গলি দিয়ে বের হওয়ার সময় গলির মুখে কনস্টেবল আরিফুলের মোটরসাইকেলের সঙ্গে গাড়ির সামান্য ধাক্কা লাগে। যাতে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল থেকে নেমে মাথায় থাকা হেলমেট দিয়ে প্রাইভেটকারে আঘাত শুরু করেন আরিফুল। গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। গাড়ি থেকে নামার পর চার তরুণকেও লাঠি ও হেলমেট দিয়ে মারধর করেন তিনি।

পুলিশ ভ্যানে হেলমেট পরা আরিফুলখোলা রাস্তায় একজন এভাবে গাড়ি ভাঙচুর ও কয়েকজনকে মারধর করছে দেখে উপস্থিত জনতা প্রতিবাদ করে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি জুমার নামাজের জন্য যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি একজন গাড়ি ভাঙছে। কয়েকজন তরুণকে মারধর করছে। তখন আমরা এগিয়ে যাই। ভেবেছিলাম কোনও সন্ত্রাসীর কাজ। পরে গিয়ে জানতে পারি পুলিশের লোক।’

তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ সদস্যের এমন আচরণে উপস্থিত সবারই খারাপ লেগেছিল। যার ফলে আরিফুলকে সবাই ঘিরে ধরেন। পরে আদাবর থানা পুলিশ আরিফুলসহ তরুণদের থানায় নিয়ে যায়।

ভাঙচুরের শিকার হওয়া গাড়িটির মালিক জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের  কার্ডিওলজি বিভাগের সার্জন ডা. সাবরিনা আরিফ। তার ছেলে রাগিব গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সঙ্গে ছিলেন তার তিন বন্ধু। গাড়িতে থাকা রাগিবের বন্ধু আহনাফ মাহাদী বলেন, ‘আমাদের গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের জোরে ধাক্কা লাগেনি। তারপরও উনি (পুলিশ কনস্টেবল আরিফুল) আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করেন, আমাদের মারধর করেন। আমাদের কোনও কথাই তিনি শুনেননি। গালাগালি করছিলেন আর মারছিলেন।’

শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে মাহাদী বলেন, ‘উনি শুরুতে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। পরে আমাদের মেরেছেন। হেলমেট দিয়ে প্রথমে মারলেও পরে কোথা থেকে তিনি লাঠি নিয়ে আসেন। সেটা দিয়েও মারেন।’

নিজের ছেলেসহ তার বন্ধুদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে প্রাইভেটকারের মালিক ডা. সাবরিনা আরিফ বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু। তারা জনগণের জন্য কাজ করেন। আজ এই পুলিশের সদস্য একজন সন্ত্রাসীর মতো মারধর করলো, ভাঙচুর করলো। পুলিশের এমন চেহারাটা কখনও দেখা হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’ 

আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, পুলিশ সদস্য ও চার তরুণকে থানায় নিয়ে এসেছি। তরুণদের অভিভাবকও আছেন। আমরা পুরো বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রথমে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পরে তারা মীমাংসা করতে চাচ্ছেন বলে জানান ডিএমপি মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হাফিজ আল ফারুক। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল মোহাম্মদপুর থানা এলাকায়। প্রাথমিকভাবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর আমরা তাদের মোহাম্মদপুর থানায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে (সন্ধ্যা ৭টা) অভিযোগকারী এসে বলেছেন, তারা কোনও অভিযোগ বা মামলা করতে চান না। তারা বিষয়টি মীমাংসা করতে চান। ফলে সেভাবেই এগোন হচ্ছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের কূটনৈতিক জোনের উপকমিশনার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের একজন কনস্টেবলের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনাস্থলের থানা পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

রাগিবের বাবা আরিফ চৌধুরী রাত সাড়ে ৮টায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা এখনও থানায় আছি। ঘটনাটি সমঝোতা করার প্রক্রিয়া চলছে।

/আরজে/এএম/

x