ইবতেদায়ির পর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অনশনে যাচ্ছেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:৫২ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৮

শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণের দাবিতে মানুষ গড়ার কারিগররা রাজপথেশিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকরা। বেতন বৈষম্যের শিকার মানুষ গড়ার এই কারিগরদের এখন দাবি একটাই- জাতীয়করণ। শিক্ষার মান ও পরিবেশ বজায় রাখতে জাতীয়করণের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা। আর সেই দাবিতেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা পঞ্চম দিনের মতো আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। আর বেসরকারি শিক্ষাকে জাতীয়করণের দাবিতে ১০ জানুয়ারি থেকে অবস্থান নিয়েছেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আগামীকাল রবিবারের (১৪ জানুয়ারি) মধ্যে দাবি আদায় না হলে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে তারাও অনশন শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে গত ১০ জানুয়ারি থেকে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম। ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে শিক্ষকরা এতে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন।
বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকরাবাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (শাহ আলম-জসিম), জাতীয় শিক্ষক পরিষদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন মিলে গঠন করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা আমাদের একমাত্র দাবি। গত ৫০ বছর ধরে বিষয়টি ঝুলে আছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয়করণের বিকল্প নেই।’ রনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের অবস্থান নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে আমাদের বসতে দেওয়া হয়নি। তাই আমরা এখানে চলে এসেছি। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকবেন জানিয়ে লিয়াজোঁ ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় দুই নীতি থাকা চলবে না। একে জাতীয়করণ করতেই হবে। তা না হলে শিক্ষার মান ও পরিবেশ ধরে রাখা সম্ভব নয়।’
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ভাতা, ঈদ বোনাস নিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার তারা। তাদের এই অবস্থা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
রবিবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পরদিন সোমবার থেকে আমরণ অনশনে যাবেন বলে জানিয়েছেন এই শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ৯ দিনের অবস্থান ধর্মঘটের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস পাননি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। পরে ৯ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। তাদের একমাত্র দাবি, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ।
আমরণ অনশনে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা, শনিবার বিকাল পর্যন্ত অসুস্থ হয়েছেন ১৩৩ জনবাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে একই পরিপত্রে রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাইমারি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা করা হয়। পরে ধাপে ধাপে ২০১৩ সালে ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করে সরকার। কিন্তু আমাদের অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি।
অনশনরত শিক্ষকরা বলছেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সব কার্যক্রম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেলেও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা তেমন কিছুই পান না। এই দুর্মূল্যের বাজারে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা অমানবিকতার শিকার বলে মন্তব্য তাদের।
রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনশনরত শিক্ষকদের মনোবল আমাদের থেকেও শক্তিশালী। জাতকীয়করণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা কোনও অবস্থাতেই রাজপথ ছেড়ে যাবেন না।’
ইবতেদায়ি শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, অনশনের পঞ্চম দিন পর্যন্ত অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন সাত জন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক।


আরও পড়ুন-
মতিঝিল আইডিয়ালে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব

/এসও/টিআর/

x