এবার সাহসিকতা পদক পাননি কোনও নারী পুলিশ সদস্য

জামাল উদ্দিন ১৯:৩০ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৮





পুলিশের চারটি পদকএবার কোনও নারী পুলিশ সদস্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এর সাহসিকতা শাখায় কোনও পদক পাননি। ১৮২ জন পদক পাওয়া পুলিশ সদস্যের মধ্যে মাত্র পাঁচজন নারী সদস্য বিপিএম ও পিপিএম সেবা পদক পেয়েছেন।


























পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০১৭ সালে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এবারের পুলিশ সপ্তাহে ১৮২ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সাহসিকতা ও সেবা শাখায় পদক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন নারী সদস্য। এই পাঁচ নারী সদস্যের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম (সেবা) পদক পেয়েছেন উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলি। এছাড়া রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক-পিপিএম (সেবা) পদক পেয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের এইচআর শাখার ডিআইজি রৌশন আরা বেগম, ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের উপ কমিশনার হামিদা পারভিন, পুলিশ সদর দফতরের সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেসমিন কেকা, র‌্যাব-১২-এ কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস।

অনেক অসহায়, নিঃস্ব, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পাশে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়িয়ে সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি মানবতার সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে আসমা সিদ্দিকা মিলিকে বিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয়।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ল্যাবটিকে বিশ্বমানের গড়ে তুলতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের ব্যবস্থাকরণ, ল্যাবের টেকনিশিয়ান স্বল্পতা দূর করতে দরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তাদের আধুনিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশারদ (এক্সপার্ট) হিসেবে ফরেনসিক ল্যাবে কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তোলার অবদান হিসেবে ডিআইজি রৌশন আরা বেগমকে পিপিএম পদক দেওয়া হয়।

প্রটেকশন বিভাগের ডিসি হামিদা পারভিনকে পিপিএম পদক দেওয়া হয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণের দৃঢ় মনোবলের স্বীকৃতিস্বরূপ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেসমিন কেকাকে পিপিএম পদক দেওয়া হয় পুলিশ সদর দফতরের সংস্থাপন শাখার কাজগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।

আভিযানিক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পালন, পাবনা ও টাঙ্গাইল জেলার চরাঞ্চলে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনাসহ আরও কিছু কাজের জন্য পিপিএম পদক দেওয়া হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাসকে।  
পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,দেশে প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্য রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র সাত শতাংশ নারী সদস্য।অ্যাডিশনাল আইজিপি পদে কোনও নারী সদস্য নেই। ডিআইজি পদে নারী রয়েছেন মাত্র দুই জন। অ্যাডিশনাল ডিআইজি রয়েছেন মাত্র একজন। পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় নারী রয়েছেন ২৮ জন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় ৯০ জন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় ১২ জন, সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় ১২৯ জন নারী সদস্য রয়েছেন।
পুলিশ বাহিনীর নন ক্যাডার পদে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদায় নারী রয়েছেন ১০৪ জন, সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদায় ৫৬৮ জন, সার্জেন্ট পদে ২৯ জন, সহকারী সাব ইন্সপেক্টর (এএসআই) পদমর্যাদায় ৮৯৯ জন, নায়েক পদে ১০ জন এবং কনস্টেবল পদে ১০ হাজার ৮০ জন নারী কাজ করছেন। 
সাহসিকতা পদক না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পিপিএম সেবা পদক পাওয়া ডিআইজি রৌশন আরা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাহসিকতার মতো কাজ হয়তো নারী সদস্যরা করেননি, তাই সাহসিকতা পদক পাননি।


/জেইউ/টিএন/

x