আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিল চেয়ে মানববন্ধন কাল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২৩:০০ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৮

কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টসরকারি আট ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে গত ১২ জানুয়ারির নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করবেন পরীক্ষার্থীরা। অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নফাঁসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আগামীকাল রবিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে এ মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গত শুক্রবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফেসবুকে ‘আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিল চাই’ নামে গ্রুপ খুলে সংগঠিত হতে শুরু করেন তারা। এ গ্রুপেই শনিবার (১৩ জানুয়ারি) কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয়।

ফেসবুক গ্রুপে এভাবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন একজন পরীক্ষার্থীগত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর শাহ আলী মহিলা কলেজে পাঁচ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা ছিল না। মাত্র ৩০ জনের বসার কক্ষে গাদাগাদি করে এক থেকে দেড়শ পরীক্ষার্থীকে বসতে দেওয়া হয়। লাইব্রেরি কক্ষ, সেমিনার কক্ষ, শিক্ষকদের মিটিং রুমে গাদাগাদি করে বসতে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের অফিস কক্ষ এমনকি প্রিন্সিপালের নিজের চেয়ারেও বসতে দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। তারপরও শত শত পরীক্ষার্থী বসার জায়গা না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কলেজটির জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে আগামী ২০ জানুয়ারি শুধুমাত্র ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এক পরীক্ষার্থীর পোস্টঅন্যদিকে, দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর প্রশ্নপত্র পৌঁছায়। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুটি ভবন। পুরনো ভবন থেকে নতুন ভবনের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে শুধু কেন্দ্রের নাম ও কক্ষ নম্বর উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরীক্ষার সিট কার কোন ভবনে পড়েছে, তার উল্লেখ ছিল না।

সৈকত উদ্দিন নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘কার সিট কোথায় পড়েছে, তার উল্লেখ নেই। যে যার মতো বসে পরীক্ষা দিয়েছেন। এমন প্রহসনের পরীক্ষা জীবনে কখনও দেখিনি।’

শুক্রবার মিরপুরের শাহ আলী মহিলা কলেজের সামনের সড়কে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভপরীক্ষার্থীরা জানান, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কোনও কোনও কেন্দ্রে সাড়ে ৩টার পরীক্ষা শুরু হয়েছে সাড়ে ৪টায়, কোথাও কোথাও ৫টায়। পরীক্ষার্থীরা অনেকেই কেন্দ্রে মোবাইল ফোনে উত্তর দেখে পরীক্ষা দিয়েছেন। গাদাগাদি করে বসায় একে অপরের খাতা দেখে পরীক্ষা দিয়েছেন।

ওইদিন পরীক্ষার পর থেকেই ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ফেসবুকে গ্রুপ খুলে সংগঠিত হতে শুরু করেন। ‘আট ব্যাংকের পরীক্ষা বাতিল চাই’ নামের ওই গ্রুপে দীপংকর সরকার লিখেছেন, ‘আগামীকাল সকাল ১০টা, প্লিজ সবাই আসুন!!!’

গ্রুপটিতে মশিউর রহমান রাজন লিখেছেন, ‘গ্রুপের মেম্বার প্রায় দুই হাজার। অন্তত ৫০০/১০০০ জন আসেন কাল সকাল ১০টায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে| আমি পরীক্ষার হলেই এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত শিক্ষক আমাকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার হুমকি দেন| তবুও আমি দমে যাইনি| সবচেয়ে আশার কথা, রুমের ১০০ জনের সবাই আমার সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন| এর পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বরতরা আসন্ন বিপদ আঁচ করতে পেরে সুর নরম করেন| এটা #মগবাজার_গার্লস_স্কুলের ১০৮ নম্বর রুমের ঘটনা| আমার রুমের সবাই পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে গেলেও পাশের রুমে প্রায় ৪০০ জন তখনও পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। #ভাই_আর_কত_সহ্য_করবেন

#আর_কতবার_স্বপ্নগুলোর_মৃত্যু_পাথরের_মত চেয়ে চেয়ে দেখবেন।আসেন একবার রুখে দাঁড়াই।আমি যাচ্ছি আগামীকাল। আপনারাও আসেন।#ভার্চুয়াল_প্রতিবাদ_আর_না #মাঠে_আসেন"।

 

/আরএআর/এএম/

x