মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাজার ঘটনায় ইউএনওসহ চারজনকে তলব

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:০৩ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ফৌজদারি মামলার এক আসামিকে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দুই উপ-পরিদর্শককে আগামী ২৮ জানুয়ারি তলব করেছেন হাইকোর্ট। 

রবিবার (১৪ জানুয়ারি) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

একইসঙ্গে গত ১৪ অক্টোবরের ওই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মো. বেলাল উদ্দিনকে দেওয়া আট মাসের সাজা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এছাড়াও ওই কোর্ট পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাদীকে কেন ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না–রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

গত ১৪ অক্টোবর দুই পুরিয়া গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরার কথা বলে চট্টগ্রামের লোহাগড়া আধুনগরের বাসিন্দা বেলাল হোসেনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আট মাসের সাজা দেয়। সেই সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে গত সপ্তাহে তিনি রিট আবেদন করেন।

পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য একটি মামলায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে বেলালকে গ্রেফতার করে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু ১৪ অক্টোবর মোবাইল কোর্টের এক আদেশে দেখানো হয়, বেলা ১২টা ১০ মিনিটে বেলালকে তার গ্রামের বাড়ির সামনে থেকে দুই পুরিয়া গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা হয়। অন্যদিকে,  ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ তালিকায় তারিখ বলা হয় ১৩ অক্টোবর রাত ৯টা ৫ মিনিট।’  

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট স্থাপন করে বাদীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। যা সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী।’ 

 

/বিআই/এএম/

x