ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে আকসুর সঙ্গে কাজ করবে ডিএমপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:৩৪ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামঢাকায় অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে ম্যাচ ফিক্সিং প্রতিরোধে আইসিসি দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দারা। তাদের সঙ্গে গোয়েন্দারা তথ্য আদান-প্রদান করবে। তারা হোটেলগুলোতে সাদা পোশাকে থাকবে।

রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকের এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, এছাড়া জুয়াড়িদের প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করবে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘অনেকদিন পর আমাদের দেশে ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটিকে সাফল্যমণ্ডিত ও উৎসবমুখর করতে সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এই লক্ষ্যে বিসিবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে আমরা সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। নিজস্ব পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশ পাহারা দেবে।  মিরপুর স্টেডিয়ামসহ ১০ নম্বর গোল চক্কর পর্যন্ত পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হবে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিয়েছি যেন গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে সবাই সিট প্ল্যান অনুযায়ী বসে।  আমাদের একটি সার্ভিলেন্স টিম ভেতরে এবং আরেকটি বাইরে থাকবে। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনেও বিসিবির নিরাপত্তাকর্মী এবং পুলিশের সদস্যরা সতর্ক পাহারায় থাকবে। গেটে যারা আসবেন, প্রত্যেক দর্শনার্থী টিকিটি বহন করবেন এবং টিকিট ছাড়া কেউই স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের যে মেশিন আছে সেটার মাধ্যমে গেটে টিকিট সুইপিং করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি সবার দেহ তল্লাশি করা হবে।  ভেতরে  প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আরেকবার তল্লাশি করা হবে। কোনও ধরনের ব্যাকপ্যাক, ব্যাগ, ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, পানির বোতল ও দিয়াশলাই নিয়ে কাউকে স্টেডিয়ামের মধ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এখানে আমাদের ভিওসি সেন্টার থাকবে। ভিওসি সেন্টার থেকে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা মনিটর করবো। প্রস্তুত থাকবে আমাদের সোয়াটের সদস্যরা। পুরো স্টেডিয়ামটি আমরা প্রতিটি খেলার আগে সুইপিং করে নেব। আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল টিম এখানে প্রস্তুত অবস্থায় থাকবে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘খেলোয়াড়রা টিম হোটেল থেকে ভেন্যু পর্যন্ত যেন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা ইতোমধ্যেই নিয়েছি। কচুক্ষেত থেকে আসা এবং যাওয়ার সময় সব দোকান-পাট নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখতে হবে। টিকিট কালোবাজারি যাতে করে না হয়, সেজন্য আমাদের ভিজিল্যান্স টিম কার্যকর থাকবে। শুধু এই স্টেডিয়ামেই নয় এই সিরিজকে সামনে রেখে আমরা পুরো ঢাকা সিটিজুড়েই একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা  নিয়েছি। যার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানা হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। স্টেডিয়াম চত্বরে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেজন্য বিসিবির স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না।’

/এআরআর/এনআই/

x