দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের দাবির সুরাহা হয়নি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:৫৮ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকশিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে বৈঠকেও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কোনও সুরাহা হয়নি। দুই মন্ত্রী অনশন ভেঙে আন্দোলন থেকে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও শিক্ষক নেতারা তাতে সম্মত হননি।

নেতারা বলছেন, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১৫ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা। প্রথমে অবস্থান কর্মসূচির পরও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনও আশ্বাস না পেয়ে তারা আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। গত ৯ জানুয়ারি থেকে অনশনে রয়েছেন শিক্ষকরা।

রবিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগে ২৫ জন শিক্ষক নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই মন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইবতেদায়ি শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন দুই মন্ত্রী। অনশন ভাঙার অনুরোধও করেছেন তারা। কিন্তু শিক্ষকরা তাতে রাজি হননি।

ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সচিব আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁইয়া, অশোক কুমার বিশ্বাস ও রওনক মাহমুদ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে যোগ দেওয়া ইবতেদায়ি শিক্ষক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আমাদের সেই পুরনো কথাই বলেছেন। তারা বলেছেন, আমাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন। এই কথা তারা গত কয়েক বছর ধরেই বলেন। কোনও লাভ হয়নি। তারা আমাদের অনশন ভেঙে চলে যাওয়ার জন্য বলেছেন। কিন্ত তাদের আশ্বাসে আর বিশ্বাস করি না। আমরা বলে এসেছি আন্দোলন চালিয়ে যাবো। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলেই আমরা বিশ্বাস করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১০ হাজার। ৪৪ হাজার শিক্ষক। কেউ এক টাকাও বেতন পায় না। শুধুমাত্র একবার কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত করেছিল, তখন দেড় হাজার মাদ্রাসাও সেই আওতায় নিয়েছিল। কিন্তু বাকিরা অনাহারে থাকে। আমরা জাতীয়করণ ছাড়া প্রেসক্লাব থেকে এক চুলও নড়বো না।’ রুহুল আমিন আরও বলেন, ‘অনশনরত শিক্ষকদের মনোবল আমাদের থেকেও শক্তিশালী। তারা কোনও অবস্থাতেই ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে যাবেন না।’

সমিতি সূত্রে জানা গেছে, অনশনের সপ্তম দিন পর্যন্ত অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত দেড়শ জনে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি আছেন সাতজন।

 

/আরএআর/এএম/

x