খালেদা জিয়া কতদিন কারাগারে থাকবেন?

উদিসা ইসলাম ২৩:৪৩ , ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৮

 

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবিজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিন পেলেও আরও অন্তত চারটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাবন্দি রাখার সুযোগ রয়েছে সরকারের। এই মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে কুমিল্লায় একটি; মানহানির অভিযোগে নড়াইলে দায়ের করা একটি; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি এবং ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার আদালতের একটি মামলা।  ইতোমধ্যেই এই চারটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার প্রেসব্রিফিংকালে খালেদা জিয়াকে কোনও মামলায় গ্রেফতার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে এখনও খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আপিল কিংবা জামিনের আবেদন করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে  তিনি আর কতদিন কারাবন্দি থাকবেন?

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘যেসব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে এরইমধ্যে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন, সে সব মামলায় তাকে এখন গ্রেফতার দেখানো একটি আইনগত বিষয়। ওইসব মামলায় তাকে আদালতে হাজির করতে হলে অবশ্যই আগে গ্রেফতার দেখাতে হবে। আর যেসব মামলায় তিনি জামিনে আছেন বা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই, সেসব মামলায় তাকে আদালতে হাজির করতে হলে কাস্টডি ওয়ারেন্ট বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করবেন আদালত।এর ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে হাজির করবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার বাইরে যেসব মামলা আছে, সেসব মামলায়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য।'

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘শাহবাগ থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা ও তেজগাঁও থানায় দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়া। এ দু'টি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট দেওয়া হয়েছে আদালতে হাজির করার জন্য। তিনি এসব মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।তিনি যদি নিয়মিত এসব মামলায় হাজিরা দেন, তাহলে তাকে আর গ্রেফতার দেখানো লাগবে না। তিনি আরও বলেন, ‘এ দু'টি মামলার পরবর্তী তারিখ যথাক্রমে ১৮ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ।’ এসব মামলায় তার হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি আদালত ও জেল কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের বিরুদ্ধে এখনও আপিল ও জামিনের আবেদন করা হয়নি উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘রায়ের কপি না পেলে আমরা তো আপিল ও জামিনের আবেদন করতে পারছি না। তারা তো কপি দিতে দেরি করছে। যত দেরি হবে, খালেদা জিয়ার জামিনেও তত দেরি হবে। আর তিনি কারাগারে থেকে তত কষ্ট পাবেন। তিনি কষ্ট পেলেই তো তাদের আনন্দ।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আদালতের পেশকার আমাদের বলেছেন, আগামী রবিবার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যাবে। আমরা তার পরদিনই খালেদা জিয়ার আপিল এবং জামিন আবেদন করবো।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ওইদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা আছে। এরমধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন, তদন্ত চলছে ১২টি মামলার এবং আদালতের নির্দেশে ৩টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে। বিচারাধীন ১৯টি মামলার মধ্যে ১৪টির বিচার কার্যক্রম বকশী বাজারের বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে চারটি মামলা দায়ের হয় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। বাকি ৩০টি বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে দায়ের করা হয়। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের যে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে, সেই মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই দায়ের করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগের মধ্যে আছে দুর্নীতি, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি, যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ প্রভৃতি।

/এমএনএইচ/

x