লেকহেড গ্রামার স্কুলের পরিচালকের জামিন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:২৫ , ফেব্রুয়ারি ১৪ , ২০১৮

লেকহেড স্কুলের পরিচালক খালেদ হাসান মতিনঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানী গুলশানের লেকহেড গ্রামার স্কুলের পরিচালক খালেদ হাসান মতিনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা আসামি পক্ষের জামিন শুনানিতে এই আদেশ দেন। দুদকের কর্মকর্তা আশিকুর রহমান এই তথ্য জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী নাসিরউদ্দিন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন ও লেকহেডের পরিচালককে গত ২৩ জানুয়ারি আদালতে হাজির করা হয়। তখন তাদের কারাগারে পাঠান ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত।
গত ২২ জানুয়ারি নাসিরউদ্দিন ও ২১ জানুয়ারি মোতালেবকে আটক করে ডিবি পুলিশ। ২২ জানুয়ারি বনানী থানায় ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম মৃধা শিক্ষামন্ত্রীর পিওসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, লেকহেড স্কুল দ্রুত খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর চুক্তি করেন নাসিরউদ্দিন ও মোতালেব। এজন্য লেকহেড স্কুলের পরিচালক মতিনের কাছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই দুই কর্মকর্তা।

চুক্তিমাফিক বনানীর আরএম গ্রুপের কার্যালয় থেকে ঘুষের ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে তিন দফায় ৩ লাখ টাকা নেন নাসিরউদ্দিন। এর মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর ৫০ হাজার টাকা, ২৫ ডিসেম্বর আরও ৫০ হাজার টাকা ও ১১ জানুয়ারি ২ লাখ টাকা লেনদেন হয়।

চুক্তি অনুযায়ী শেষ কিস্তির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন নাসিরউদ্দিন। এর আগে মোতালেব হোসেন ও খালেদ হাসান মতিনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গুলশান ও বসিলা এলাকা থেকে ধরার পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছরের ৫ নভেম্বর ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেকহেড গ্রামার স্কুলের গুলশান ও ধানমন্ডির দুটি শাখা বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দুই দিন পর ৭ নভেম্বর ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মেহেদী স্কুলটির দুটি শাখা বন্ধ করে দেন।

গত বছরের ৯ নভেম্বর লেকহেড স্কুলের দুটি শাখা বন্ধের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিন ও ১২ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পক্ষে দুটি রিট দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলটি খুলে দেওয়ার আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু পরে আবারও তা স্থগিত করে দেন হাইকোর্ট। গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট স্কুলটি খুলে দেন। এর পরদিন ১৩ জানুয়ারি থেকেই স্কুলটি খোলা রাখা হয়।

/টিএইচ/জেএইচ/

x