লাশ স্বাভাবিকভাবে শনাক্ত না হলে ডিএনএ টেস্ট: ড. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা (ভিডিও)

শরিফুল ইসলাম, কাঠমাণ্ডু থেকে ২২:৪৮ , মার্চ ১৩ , ২০১৮

 

ডা. শ্রেষ্ঠানেপালে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায়  নিহতদের ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে স্বজনদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার পর শনাক্ত করা গেলেই লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হসপিটালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা। তিনি বলেন, ‘এরপরও শনাক্ত করা না গেলে ডিএনএ পরীক্ষা করে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ মঙ্গলবার একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

এখন পর্যন্ত কয়জনের লাশ আছে—জানতে চাইলে ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘৪৯ জনের লাশ পেয়েছি।’ এরমধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সেটি আলাদা করে বলতে পারবো না। আমরা সব পরীক্ষা শেষ করিনি। বেশিরভাগ লাশ ঝলসে গেছে। শনাক্ত করা খুব কঠিন।’ ৪৯টি বডিই পুড়ে গেছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। বেশিরভাগ পুড়ে যাওয়া, সব নয়। কিছু লাশের হাত যদি পুড়ে যায়, আপনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাবেন না। পুলিশ সব লাশের নম্বর সংগ্রহ করেছে। লাশ গ্রহণ করার সময় আমরা সেটি চিহ্নিত করে রেখেছি। এটাই আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া।’ 

সোমবারই ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা  বলেন, ‘কাল তিন-চারটা কাজ করতেই রাত দেড়টা বেজে যায়। আজ আবার শুরু করার পর এখন পর্যন্ত ১১ জনের ময়নাতদন্ত করেছি। অ্যান্টিমর্টেম ডাটা, যেগুলো পরিবারের সদস্যরা মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে আমাদের দিয়েছেন, সেগুলো ধরে ধরে সংগ্রহ করছি। যেমন ধরুন, উচ্চতা, ওজন, চোখের রঙ, কোনও ব্যক্তিগত অলঙ্কার, ট্যাটু বা যেকোনও চিহ্ন। দাঁতের চিকিৎসা করানো থাকলেও সেটা ময়নাতদন্তে কাজে আসবে। আমরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর অ্যান্টিমর্টেম ডাটার সঙ্গে মেলানোর কাজটি করবো। যদি এটাতেও না হয়, ফিঙ্গার প্রিন্টের দিকে যাবো। এখন পর্যন্ত ১১টি লাশের মধ্যে মাত্র ৪জনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ১০ জনের দাঁতের পরীক্ষা করা হয়েছে। ময়নতদন্তের পর আমরা তথ্য নিয়ে বসে মিলিয়ে দেখবো। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো আরও তিন চারদিন লেগে যাবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে স্বজনদের তথ্য মিলিয়ে চিহ্নিত করা গেলে পুলিশকে জানানো হবে। এরপর বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’

এর আগে সোমবার বিকেল থেকে লাশ গ্রহণ শুরু করেছে ফরেনসিক বিভাগ উল্লেখ করে ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘শেষ যে লাশটি গ্রহণ করেছি, তখন রাত ১০টা। সেগুলো পাওয়ার পর আমাদের প্রথম চিন্তা ছিল সেল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। দেহগুলো হিমাগারে রাখা হয়েছে। পুরো ঘরটিই হিমাগার। আমরা গতকালই ময়নাতদন্ত শুরু করি।’

এই লাশের মধ্যে পাইলটও আছেন কিনা, জানতে চাইলে ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমরা আলাদা করে বলবো না। এখানে কো-অর্ডিনেশনের সমস্যা আছে। এয়ারলাইন্সের লোকজন আমাদের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।পরে যখন আমরা ময়নাতদন্ত করছি, তখন বিস্তারিত পাচ্ছি। যেমন মানিব্যাগে, আইডি কার্ড,  পোশাকের স্ট্রাইপ। বাংলাদেশ থেকে আসা পরিবারগুলোকে বলেছি, অ্যান্টিমর্টেম ফরম পূরণ করে দিতে।’

এয়ারলাইন্সের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে বললে ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘তারা হয়তো ব্যস্ত। লাশগুলো এখানে, তারা এখানে নেই। আমাদের কাছে ফ্লাইট ম্যানুফেস্টো নেই। আমাদের পুলিশকে বলতে হবে, এটা আনার জন্য।’ এসব যাত্রীর তথ্য না দেওয়ার জন্য এয়ারলাইন্স না এয়ারপোর্ট জন্য দায়ী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই। তবে প্রথমত এয়ারলায়েন্সকেই দায়ভার নিতে হবে।’ এরপর পুলিশ, এয়ারপোর্ট, স্থানীয় হাসপাতাল দায়ভার নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

<p>

/ইউআই/এমএনএইচ/

x