আমারও তিনটি ছবি ছিল, পুলিৎজার পাওয়া বাংলাদেশি আলোকচিত্রী পনির

উদিসা ইসলাম ১৪:৪৩ , এপ্রিল ১৭ , ২০১৮


মোহাম্মদ পনির হোসেন‘সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সেই ফটোস্টোরিতে আমার তোলা তিনটি ছবি স্থান পেয়েছিল। সেই কাজই সাংবাদিকতার সবচেয়ে সেরা পুরস্কারটি জিতে নিয়েছে, ভাবতেই শিহরণ বোধ করছি। কাল (সোমবার) রাতে শোনার পর মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আমি ঘুমাতে পারিনি।’ বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলছিলেন রয়টার্সের হয়ে কাজ করা বাংলাদেশের আলোকচিত্রী মোহাম্মদ পনির হোসেন।

আলোকচিত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ সাংবাদিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা পুলিৎজার পেয়েছে রয়টার্সের পুরো ফটোগ্রাফি স্টাফ। এরমধ্যে বাংলাদেশের আলোকচিত্রী মোহাম্মদ পনির হোসেনও রয়েছেন। রয়টার্সের ফটোগ্রাফি স্টাফের সদস্য পনির বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রয়টার্সের আলোকচিত্রী মোহাম্মদ পনির হোসেন২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেদেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যা পরিস্থিতি ছবির মাধ্যমে প্রকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য রয়টার্সের ফটোগ্রাফি টিমকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ পনির হোসেন বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি টিম কাজ করেছি। কিন্তু এই টিমটি যে একসঙ্গে কাজ করেছি, এমনও না। একে একে গিয়ে কাজটা হয়েছে। বাইরে থেকে রয়টার্সের যারা এসেছিলেন, তারা হয়তো একদিনের সাংবাদিকতা ভিসা নিয়ে এসেছিলেন। ফলে তাদেরও টানা অনেক দিন থাকার সুযোগ ছিল না। পরবর্তীতে আমাদের ছবিগুলো নিয়ে একটি স্টোরি পাঠানো হয়, যেখানে আমার তিনটি ছবি ছিল।’

ফেসবুকে পনিরের স্ট্যাটাস

ছবিগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনটি ছবির একটি ছিল ভেলায় করে রোহিঙ্গাদের আসা, বৃষ্টির সময়ে অসহায় শিশু থেকে বয়স্কদের ছবি, আর ছিল একজন নারী তার সদ্যমৃত শিশুকে চুমু দিচ্ছেন।’

পনির বলেন, ‘যে সময় পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হবে, সে সময় আমার যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। সিনেমায় অস্কার, সুনির্দিষ্ট সেক্টরে নোবেল পুরস্কার যেমন সম্মানের, সাংবাদিকতায় পুলিৎজারের মতো সম্মানের কিছু নেই। এই পুরস্কার টিমের সঙ্গে নাম থাকাটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’  তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

/এপিএইচ/চেক-এমওএফ/

x