ঢাবি’র সব ভাস্কর্যের চোখ কালো কাপড়ে ঢেকে দিলো কারা

সিরাজুল ইসলাম রুবেল ১৫:০০ , এপ্রিল ১৭ , ২০১৮

অপরাজেয় বাংলাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের কলাভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য ও মধুর ক্যান্টিনের সামনে অবস্থিত মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্যগুলোর চোখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকালে এসব স্থাপনায় কালো কাপড় দেখা যায়।

কিন্তু কারা কী উদ্দেশে কালো কাপড়ে ভাস্কর্যগুলোর চোখ ঢেকে দিলো তা জানা যায়নি। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছাত্রনেতাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে।

ভাস্কর্যগুলোর আশপাশে যারা ছিলেন কথা হয় তাদের সঙ্গে। জানতে চাইলে তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সকালে এসে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দাঁড়ালে হঠাৎ ভাস্কর্যের কালো কাপড় চোখে পড়ে। কিন্তু কেন ভাস্কর্যের চোখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো তা জানি না।’

ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে বা ভোরে কেউ এ কাজ করেছে। স্থানীয়দের মন্তব্য, ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এর প্রতিবাদেও কেউ এটা করতে পারে। কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অর্থ হলো, প্রশাসনের চোখের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন তা চোখে দেখা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। হয়তো কেউ এজন্য কালো কাপড় দিয়ে সব ভাস্কর্যের চোখ ঢেকে দিয়েছে।’


রাজু ভাস্কর্যএকই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাস। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘এ ধরনের কাজ করা হয় মূলত কোনও কিছুর প্রতিবাদে। হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়, সে কারণেও হতে পারে।’


ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড.একেএম গোলাম রব্বানী অবশ্য এটাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন না। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া তার বক্তব্য হলো, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধিচর্চার কেন্দ্র। এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের মুক্তবুদ্ধিরচর্চা করবে। হয়তো কেউ মুক্তচিন্তা থেকে এ ধরনের কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ অবস্থাকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে। তিনি মনে করেন, এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসকে যারা অস্থিতিশীল করেছে, তাদের কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকতে পারে।’ 
মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্যতবে এ ঘটনার সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনও শিক্ষার্থী জড়িত নয় বলে দাবি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কাজ আগেও অনেকবার দেখেছি। কিন্তু এটা কে করেছে তা আমরা বলতে পারবো না। এসব কাজের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।’

‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক হিসেবে। এতে চিত্রিত হয়েছে বিভিন্ন পেশার তিন মুক্তিযোদ্ধা। আর সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডবিরোধী প্রতীক হিসেবে গড়া হয়েছে রাজু ভাস্কর্য।

/জেএইচ/চেক-এমওএফ/

x