‘ধূমপান কমলেও বেড়েছে ইয়াবা আসক্তি’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:৩৫ , মে ১৬ , ২০১৮

 

ধূমপান কমেছে বেড়েছে ইয়াবা আসক্তিদেশে ধূমপান কমে আসলেও পরোক্ষ ধূমপানে প্রতিবছর অসুস্থ হচ্ছে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ। আর ধূমপান আট শতাংশ কমলেও ভায়বহভাবে বেড়েছে ইয়াবা আসক্তি। বর্তমানে দেশে ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ ইয়াবা আসক্ত।

বুধবার (১৬ মে) সচিবালয়ে পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতির বিষয়ে তৈরি নতুন টিভি স্পট ‘বিষধোঁয়া’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান।

সচিব জানান, ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রাপ্ত বয়স্ক ৪৩ শতাংশ মানুষ ধূমপান করেন। তবে ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী তা ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এই ৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

সচিব সিরাজুল হক খান বলেন, ‘আমাকে অনেকেই তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, ধূমপান কমে আসলেও সমপরিমাণ ইয়াবা আসক্তি বেড়েছে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবনে অসুস্থ হয়ে মারা যান। ১৫ থেকে ৬৮ বছর বয়সী ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ তামাক সেবন করেন। এই সংখ্যা চার কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ পুরুষ ও ১ দশমিক ৫ শতাংশ নারী রয়েছে। শুধু তামাক সেবন করেন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ২৬ শতাংশ, আর নারী ২৮ শতাংশ। দেশে প্রতিবছর ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অসুস্থ হয়।’  

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ২০ শতাংশ মানুষ এখনও দরিদ্র সীমার নিচে জীবন-যাপন করে। দেশের মানুষ তামাক পরিহার করলে এই দরিদ্র সীমার সংখ্যা একেবারেই কমে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াবা মহামারী আকারে দেশে  প্রবেশ করছে, যা উদ্ধার হচ্ছে তা প্রবেশ করা ইয়াবার মাত্র ৪ শতাংশ। আমরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রক্ত ঝরাতে পিছ পা হবো না।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার পুর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই। আমরা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেবো।’

প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ধূমপানমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ‘ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস’ এর কান্ট্রি অ্যাডভাইজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে এটি আলোর মুখ দেখবে।’

এছাড়া, অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসএমএ/ এপিএইচ/

x