‘আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তার পাশের খাবারও স্বাস্থ্যসম্মত হবে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০৪:০৩ , মে ১৭ , ২০১৮

ডিআরইউ ‍মিলনায়তনের আলোচনা সভা

আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তার পাশের খাবারও স্বাস্থ্যসম্মত হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তার পাশের খাবারও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। তবে রাস্তা বা বাইরেই খাবার নিরাপদ হলেই হবে না, বাড়ির ভেতরের খাবারও নিরাপদ হতে হবে।’

বুধবার (১৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্ক (বিএফএসএন) আয়োজিত ‘রমজানে নিরাপদ খাদ্যের আলোকে ইফতার’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘উৎপাদন থেকে বিপণন এবং বিপণন থেকে শুরু করে খাবার টেবিল পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সরকার কাজ করেছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পার্শ্ববর্তী দেশের আইনের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তা আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। অনেক দেশে এই আইন বাস্তবায়নে ৭ থেকে ৮ বছর সময় লেগেছে। এই আইন আমাদের দেশে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, সবার সহযোগিতা পেলে অন্যান্য দেশের চাইতে কম সময়ে এই আইনের বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোক্তার সচেতনতার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। যে খাবার আপনার পরিবার বা সন্তানকে দিতে পারবেন না, সেটা কেন আরেকজনকে খাওয়াবেন? এখন আপনাদের বিবেক সচেতন করার কাজ চলছে। সঠিক পথে না এলে খুব দ্রুতই শাস্তির বিধানে নামবো।’

ভেজাল ও দূষণরোধে সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্কের চেয়্যারম্যান মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে জোর চেষ্টার অংশ হিসেবে রমজানের আগেই ভেজাল ও দূষণরোধে অভিযান চলছে। শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁর খাবারের মান যাচাইয়ে প্রফেশনাল অডিটর দিয়ে অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী লাল-নীল ও হলুদ রঙ নির্দেশনা দিয়ে ঝুঁকির বিষয়ে জনগণকে জানানো হবে। কাঁচাবাজার ও কসাইখানা খাদ্য দূষণের বড় জায়গা। রমজানে বড় ঝুঁকি হচ্ছে পানি। জারের পানিতে জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। এই বিষয়ে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বরফ কলের দূষণ নিয়ে অভিযান চলছে।’  

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে  সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সিইও আনোয়ার ফারুক ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রিন্সিপাল অ্যান্ড হেড অব নিউট্রিশন বিভাগের শাসসুন নাহার নাহিদ, এফএও ফুড সেফটি প্রোগামের সিনিয়র ন্যাশনাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর শাহ মুনির হোসেনসহ প্রমুখ।

 

/এসও/এএইচ/

x