ব্যক্তিগত কর্মচারীকে স্টাফ হিসেবে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগ ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আদিত্য রিমন ০৭:৪৮ , জুন ১৩ , ২০১৮







ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্টাফ হিসেবে দেখিয়ে বৃত্তি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একই বিভাগের চেয়ারপারসন উপাচার্যের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘নীতিবহির্ভূত’ কার্যকলাপের লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. ইমদাদুল হককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।
যার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে তার নাম ড. শাহীন ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত ১৫ মে ঢাবি এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম একই বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপাচার্যের কাছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, “অধ্যাপক শাহীন ইসলাম তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ‘হিল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর সাব প্রজেক্ট ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ ইমরানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দেখিয়ে একটি স্কলারশিপ দিয়ে উচ্চতর শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছেন, যা এই স্কলারশিপের নিয়মবহির্ভূত।’
শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়ে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র নিয়ে অধ্যাপক মেহতাব খানম আমার কাছে এসেছিলেন। জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তবে ডিন বেশ কিছু দিন দেশে ছিলেন না, এখন দেশে এসেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, “অরফান ট্রাস্ট-এর প্রতিনিধি মিনা মরিসের পাঠানো ইমেইল অনুযায়ী ‘দ্য অরফান ট্রাস্ট অ্যান্ড হোয়াইট ল্যান্ডস প্লে থেরাপি স্কলারশিপ’-এর জন্য আবেদনকারীর প্রথম শর্ত হচ্ছে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকতে হবে। প্লে থেরাপির ওপর প্রশিক্ষণ শেষে স্কলারশিপ গ্রহণকারীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে ৩ বছর প্লে থেরাপির প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কিন্তু শাহীন ইসলাম যে আবেদনকারীকে সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নন এবং কখনও ছিলেন না। তবে তিনি ২০১৪-২০১৫ সেশনের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।’
মেহতাব খানম আরও অভিযোগ করেন, ‘মোস্তাক আহমেদ ইমরানকে যখন স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়, তখন বিভাগের চেয়ারপারসন হিসেবে আমি দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু শাহীন ইসলাম বিভাগীয় প্রধান ও একাডেমিক কমিটিকে উপক্ষো করে এবং বিষয়টি গোপন রেখে অরফান ট্রাস্ট এবং রোহাম্পটন ইউনিভার্সিটির হোয়াইটস ল্যান্ড গিল্ড-এর সঙ্গে বিভাগীয় পরিচয় উল্লেখ না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা তার এখতিয়ারবহির্ভূত। তাই অধ্যাপক শাহীন ইসলামের নীতিবহির্ভূত আচরণের কোনও দায়ভার একাডেমিক কমিটি নেবে না।’
ভবিষ্যতে কোনও শিক্ষক যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ ও বহির্বিশ্বের কাছে কলঙ্কিত করতে না পারেন সে জন্য অধ্যাপক শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একাডেমিক কমিটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেন মেহতাব খানম।
তবে এ বিষয়ে শাহীন ইসলামের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাসার নম্বরে ফোন করা হলে তার ভাগ্নে আরিফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামা দেশের বাইরে রয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক কেন এই কাজ করেছেন সে বিষয়ে তাকে লিখিত দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমি দেশের বাইরে থাকায় তিনি তা জমা দিয়েছেন কিনা জানি না। এখন দেশে ফিরে এসেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে জানতে পারবো তিনি জমা দিয়েছেন কিনা।’



/এএইচআর/আইএ/এইচআই/চেক-এমওএফ/

x