নদী বাঁচাতে ২২ সেপ্টেম্বর পদযাত্রা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:২৫ , সেপ্টেম্বর ১৪ , ২০১৮

 

বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন‘নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন বন্ধ করো’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পালন করা হবে বিশ্ব নদী দিবস।দিবসটি উপলক্ষে ২২ সেপেম্বর নদী বাঁচানোর দাবিতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-সহ দেশের নদী ইস্যুতে সক্রিয় সামাজিক সংগঠনগুলো।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স রুমে বিশ্ব নদী নদী দিবস ২০১৮-এর জাতীয় প্রতিপাদ্য ও অনুষ্ঠান প্রস্তুতি বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ব নদী দিবস পালন কমিটি ২০১৮ -এর আহ্বায়ক ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শেখ রোকনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন— বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহম্মেদ কামরুজ্জামান, সুন্দর জীবন-এর নির্বাহী পরিচালক ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নোঙ্গর এর সুমস শামস।

আব্দুল মতিন বলেন, ‘পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নদীকে বাঁচানোর আন্দোলন করে আসছে।এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব নদী দিবসে একটি র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। কারণ, আমাদের নদীগুলো দ্রুত মারা যাচ্ছে। আমরা নদীগুলোকে বাঁচাতে চাই। এটি সুবিদিত যে, নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারে চরম বির্পযয়ের শিকার। বস্তুত নদীর জন্য এদেশে কেউ নেই। বরং নদী নিয়ে ব্যবসা করা, নদীর বুক থেকে নির্বিচার ও অবারিত বালু তোলা, নদী দখল ও হত্যা করে তা থেকে আর্থিক ফায়দা লোটা, মৃত নদীর ওপর বাড়িঘর নির্মাণ, অপ্রয়োজনীয়-বিজ্ঞানবিরোধী এবং নদীর জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রকল্প বানিয়ে তার সুবিধা ভোগ করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে নদী হত্যার কাজ করা, নদীরক্ষার নামে ভুল নীতিভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নসহ নদী ধ্বংসের সব কর্মই করা হয় এদেশে। ফলে বাংলাদেশের অনেক নদীই এরমধ্যেই দখল-দূষণ ও প্রকল্পজনিত কারণে বিনষ্ট ও নিশ্চিহ্ন হয়েছে।’

মিহির বিশ্বাস বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এদেশের নদী পথের দৈর্ঘ্য  ছিল ২৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার আটশ’ বর্গ কিলোমিটারে। বর্তমানে ভূমিদস্যুদের কারণে এর গতি আরও তরান্বিত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এদেশ মরুভূমিতে পরিণত হতে দেরি লাগবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নদী রক্ষার জন্য শক্তিশালী নির্বাচনি ইস্তেহার চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নদীর বাঁচানোর দাবিতে অনুষ্ঠেয় পদযাত্রার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় বাহাদুর শাহ পার্কের স্মৃতি সৌধের সামনে সবাই জমায়েত হবে। এরপর দুপুর ১২টায় সেখান থেকে পদযাত্রা শুরু করে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হবে। সারাদেশের সব নদীপাড়ের সব নদী ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী এবং সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

/এসএনএস/ এপিএইচ/

x