দর্শককে আবারও হলমুখী করতে সংস্কার হচ্ছে এফডিসিতে

শফিকুল ইসলাম ১১:৪৩ , অক্টোবর ০৯ , ২০১৮

বিএফডিসি (ছবি: সংগৃহীত) নানা সংকটে জর্জরিত থাকায় দেশীয় চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে (এফডিসি) নির্মাতাদের পদচারণা কমে গেছে। চলচ্চিত্র শিল্পের এই সংকট ও দুর্দশা কাটানোর জন্য ডিজিটাল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রয়োজন। এই অনুভব থেকেই নতুন করে সাজানো হচ্ছে বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনকে (এফডিসি)।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চলচ্চিত্র শিল্পে বিরাজমান মন্দাবস্থা থেকে গৌরবময় সোনালি অতীতকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই শিল্পের বিকাশ ও সম্প্রসারণে ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার, যা গত ২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে আধুনিক ‘গ্রিন বিল্ডিং’-এর কনসেপ্টে নির্মাণ করা হবে নতুন এফডিসি ভবন। ভবনটি হাতিরঝিল প্রকল্পের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিল রেখে নির্মিত হবে। এই ভবনে নানা রকম কারিগরি ও আধুনিক সুবিধা সংযোজন করা হবে। ভবনটিতে নানা রকম কারিগরি ও আধুনিক সুবিধা সংযোজন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য এফডিসির নতুন ভবনে থ্রি-ডি থিয়েটার ও সিনেপ্লেক্সগুলো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত করা হবে। সেখানে লেজার ডিজিটাল প্রজেক্টর ও ডলবি সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ঢাকায় বসুন্ধরা সিটিতে এবং যমুনা ফিউচার পার্কে এ ধরনের ডিজিটাল সিনেমা প্রদর্শন সিস্টেম চালু রয়েছে। এসব সিনেপ্লেক্সের তুলনায় আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত করা হবে এফডিসি ভবনে স্থাপিত সিনেপ্লেক্স। এতে পূর্ণাঙ্গ থ্রি-ডি থিয়েটার প্রদর্শন সিস্টেম থাকবে। এর মাধ্যমে বিনোদনের নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ফলে দর্শকদের সিনেমা হলমুখী করা সম্ভব হবে। চলচ্চিত্র নির্মাতারা পুনরায় নতুন সিনেমা তৈরি করতে আগ্রহী হবেন, নতুন নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলী সৃষ্টি হবে। এ শিল্পে প্রাণের সঞ্চার হবে, ফলে উজ্জীবিত হবে চলচ্চিত্র শিল্প।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মনে করে, আধুনিক এফডিসি ভবনটি নির্মিত হলে চলচ্চিত্র শিল্পকে সম্প্রসারণ, সুদৃঢ় করাসহ বিএফডিসিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভরকরণ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। বিএফডিসি’র মধ্যে বহুমুখী বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। ভবনের মধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক এবং কারিগরি সুবিধা সংযোজন করে বিনোদনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টির মাধ্যমে বিএফডিসি তথা চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি মজবুত করাও সম্ভব হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর বাংলাদেশে এফডিসি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১৯৫৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদে একটি বিল উত্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এফডিসি)। এরপর চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হওয়ার পর ৭০ এবং ৮০-এর দশকে জীবন কাহিনি, শিক্ষামূলক, মুক্তিযুদ্ধ, শিশুতোষ ও প্রেম কাহিনিভিত্তিক বাণিজ্যিকভাবে সফল অনেক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এই এফডিসিতে।

সূত্র জানায়, এফডিসিকে আবারও সচল, প্রাণবন্ত ও গতিশীল করে তোলার লক্ষ্যেই ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেই প্রকল্প ব্যয়ের পুরো অর্থের জোগান দেওয়া হবে বলে জানা গেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। আগামী ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদকালে তা বাস্তবায়িত হবে। রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বর্তমান ক্যাম্পাসেই নির্মিত হবে নতুন এফডিসি ভবন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৪৫ হাজার ৮০২ বর্গ মিটার মূল ভবন নির্মাণ করা হবে। ৪টি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ ও ৪ সেট সিনেমা প্রদর্শনের আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে। একই সঙ্গে ৭৩ হাজার ৪৬৯ বর্গমিটার শুটিং ফ্লোর নির্মাণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, অতীত সরকারগুলোর অবহেলায় দীর্ঘদিন পড়ে ছিল পুরো চলচ্চিত্র শিল্প। এ শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

/এসআই/এএইচ/এমওএফ/

x