মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে যোগ হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী গল্প-প্রবন্ধ

এস এম আববাস ২১:৫৯ , অক্টোবর ১১ , ২০১৮

শিক্ষা মন্ত্রণালয়দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে এবার মাদ্রাসা শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী গল্প ও প্রবন্ধ। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে বিষয়টি ২০২০ সাল থেকে যুক্ত করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টির প্রক্রিয়া চলছে। আমরা দুর্নীতিবিরোধী গল্প, প্রবন্ধ বা নৈতিক শিক্ষামূলক বিষয় ষষ্ট শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যোগ করার জন্য নির্দেশনা দেবো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তুক বোর্ড (এনসিটিবি)-কে। এনসিটিবি পাঠ্যসূচি ঠিক করবে।’

মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. আব্দুল খালেক জানান, ‘দুদক মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছিল দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। আমরা মাদ্রাসা অধিদফতরের সুপারিশের পর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে অভিমত চেয়েছিলাম। বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে যোগ করার জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে অভিমত দিয়েছিল। এখন কাজ চলছে।’

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাই পাঠ্যসূচিতে দুর্নীতিবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠায়। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়, মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয়। এসব পাঠ্যবইয়ে দুর্নীতি বিরোধী তথা নৈতিকতার বিষয় সম্পৃক্ত করে শিক্ষার্থীদের দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব তৈরি করা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

দুদকের এই প্রস্তাবের পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ষষ্ট শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় ও ইসলামের ইতিহাসসহ বাধ্যতামূলক পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে সুপারিশ করে। অধিদফতরের এই সুপারিশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে অভিমত চাওয়া হয়। সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেয়। এই অভিমতের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় পাঠ্যসূচিতে দুর্নীতিবিরোধী গল্প, প্রবন্ধ বা নৈতিক শিক্ষামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পাঠক্রম ও পাঠসূচি প্রণয়নের কাজ করে  এনসিটিবি। তাই পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিটির কাছে নির্দেশনা পাঠাবে মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পাঠ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে এনসিটিবি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়া শেষ হলেও ২০১৯ সালের পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি যুক্ত হওয়ার  সুযোগ নেই। ইতোমধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। তাছাড়া পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। আগে কনটেন্ট বাছাই করতে হবে, তারপর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। কোন বইয়ে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত প্রয়োজন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে এনসিটিবি বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে যোগ করবে। কম সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২০ সালের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। নাহলে ২০২১ সালে যুক্ত করতে হবে।

/এমএনএইচ/

x