ঢাবিতে চোর ধরলেন কর্মচারীরা, টাকা নিয়ে ছেড়ে দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

ঢাবি প্রতিনিধি ২৩:৪৭ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হকের কর্মচার্রীরা এক চোর ধরেছিলেন। পরে সেই চোরের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে তাকে থানায় না দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগের হল শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিফাত উদ্দীন। রিফাত নিজে এ তথ্য স্বীকার করেছেন। কিন্তু এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং হল কর্তৃপক্ষ।   

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাতে হলের মধ্যে চুরি করতে এসে কর্মচারীদের হাতে ধরা পড়ে সুজন নামের এক ব্যক্তি। পরে হল ছাত্রলীগ নেতা রিফাত উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন এসে ওই ব্যক্তিকে নিজেদের দায়িত্বে নেয়। এরপর টাকা টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে রিফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই চোর আমাদের কাছে হলের কয়েকটি সাইকেল চুরি করার কথা স্বীকার করেছে। যেসব শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি হয়েছে তারা আমাকে জানিয়েছে। তাই তারা চোরকে প্রশাসনের হাতে না দিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বলে। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা মতো চোরের থেকে টাকা নিয়ে তাদের (যাদের সাইকেল হারিয়েছে) মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি। আমার কাছে আরও কিছু টাকা আছে। তা হিসেব করে যাদের সাইকেল হারিয়েছে তাদের দিয়ে দেবো।এই ঘটনা সম্পর্কে আমি ফেসবুকে একটি পোস্টও করেছি।’

চোরকে থানায় না দেওয়ার ব্যাপারে রিফাত বলেন, ‘এর আগেও চোরকে ধরে প্রশাসনের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন তাদের থানায় দিয়েছে। এতে কোনও লাভ হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যাদের সাইকেল হারিয়েছে, তারা ক্ষতিপূরণ চান। তাই চোরের থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়েছে।’ 

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, ‘এই ঘটনার পর রিফাত তার সঙ্গের একজনকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। পরে সে ও তার কয়েকজন বন্ধু চাঁনখারপুল এলাকায় নৈশভোজন করতে যান।’

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিফাত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী। এ ব্যাপারে গোলাম রাব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। এধরনের কাজ সংগঠনের নিয়ম বর্হিভূত। আমরা বিষয়টি দেখবো। তবে আমি বলব যে, এ ব্যর্থতা হল প্রশাসনের।’

এ বিষয়ে জহুরুল হক হলের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ ড. মো. মুহসীন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। সে (রিফাত) টাকা নিতে পারে না। তারা চোরকে হল প্রশাসনের কাছে তুলে না দিয়ে যে কাজ করেছে তা ঠিক করেনি।’ 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাইকেল চুরির ঘটনায় একজনকে কর্মচারীরা ধরেছে বলে শুনেছি। কিন্তু চোরকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে না দিয়ে তার থেকে টাকা আদায় করার বিষয়টি আমি জানি না। এমনটি যদি হয়ে থাকে তাহলে ঠিক করেনি তারা। কোনও চাঁদাবাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক নেই। এটি প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

/এএইচ/

x