টিআইবি পুরস্কার পেলেন ৬ গণমাধ্যমকর্মী ও ২ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২০:২৩ , ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৮

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুর্নীতি বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০১৮ পেয়েছেন ৬ জন গণমাধ্যম কর্মী ও টেলিভিশনের দুটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির ধানমন্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

প্রিন্ট মিডিয়া (জাতীয়) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার মো. আনোয়ার হোসাইন।

প্রিন্ট মিডিয়া (আঞ্চলিক) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন খুলনার দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ নুরুজ্জামান।  

এছাড়া জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট মিডিয়া (জাতীয়) বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি রাজিব নুর এবং একই পত্রিকার সহ-সম্পাদক জাহিদুর রহমান। 

ইলেকট্রনিক মিডিয়া (প্রতিবেদন) বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মুফতি পারভেজ নাদির রেজা।

আর জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মাছরাঙা টেলিভিশনের পাবনা ব্যুরো অফিসের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল মির্জা।

এছাড়া টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রামাণ্য অনুষ্ঠান বিভাগে এবছর পুরস্কার অর্জন করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের তালাশ টিম।

অন্যদিক জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক অনুসন্ধানী টেলিভিশন প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের জন্য এবছর টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার অর্জন করে যমুনা টেলিভিশনের ৩৬০ ডিগ্রি টিম।

প্রত্যেক বিভাগে বিজয়ী সাংবাদিককে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। আর প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও এসময় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা বলেন,‘সমাজের মঙ্গল ও সাংবাদিকতার স্বার্থেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জরুরি। তাই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধক হয় এমন আইন প্রয়োজনে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করতে হবে। দরকার হলে পুরনো আইন বাতিল করে নতুন করে গণমাধ্যমবান্ধব আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। তিনি বলেন, ‘সভ্যতার শুরু থেকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। স্বাধীন মত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে এটা কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউ জানে না। সরকার বা বিরোধী যেই হোক না কেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া আমরা যে সমাজ চাই তা সম্ভব নয়। তাই একটা আইন হয়েছে মানে এটা পরিবর্তন করা যাবে না এমন নয়। অনেকবার আইন হয়, আবার তা পরিবর্তনও হয়।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম। এসময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সেমিনারে সিনিয়র লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘আমরা নাগরিকের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা সেই সংগ্রামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আইন করে সব বন্ধ করে দিতে হবে। এতে মনে হচ্ছে সরকার কিছুটা ছাড় দিলে আবার কিছুটা কঠিন হচ্ছে। আমরা চাই সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আরও বৃদ্ধি পাক। এজন্য নাগরিক সমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে এই আইনটা কতটা তথ্যপ্রকাশ বান্ধব হবে তা নির্ভর করবে নাগরিক সমাজের ভূমিকার ওপর।’   

সেমিনারে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সরকারের স্ববিরোধিতার পরিচায়ক। কারণ জাতিসংঘের যে সনদের ওপর ভিত্তি করে আমরা আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করছি তার ১৩ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জনগণ, সুশীলসমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রয়াসকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু এই আইন সেধরনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে কোনভাবেই সহায়ক নয়। সুতরাং অবিলম্বে এই আইনটি পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন এমনকি প্রয়োজনে বাতিল করে আবার নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে।’  

টিআইবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীন, ঢাকা বাংলা (ডিবিসি) চ্যানেলের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু, ইউএনবির সাবেক নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমদ প্রমুখ।

 

 

 

/এসএস/এএইচ/

x