রাজধানীতে গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২০:২৮ , ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৮



লাশরাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে তমালিকা শারমিন বৈশাখী (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) উদ্ধার করে পুলিশ। আজ শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনার নিয়ে গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, বৈশাখীকে তার স্বামী মেহেদি হাসান শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক তৈরি করেছে।
বৈশাখী রাজশাহীর বাঘা থানার জোতকাদিরপুর গ্রামের মো. আব্দুল আজিজের মেয়ে। তার স্বামী মেহেদি হাসান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পড়াশোনা শেষ করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আইডিএলসিতে চাকরি করছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, বৈশাখী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পল্লবীর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনজুরুল ইসলাম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টায় ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি বাসা থেকে বৈশাখীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামী মেহেদী হাসান তার লাশ শনাক্ত করেন। বাসাটির ঠিকানা সি ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ৫৬ নম্বর (পঞ্চমতলা)। পরে বৈশাখীর সুরতহাল তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় শুক্রবার বিকেলে।
মো. মনজুরুল ইসলাম সুরতহাল প্রতিবেদনে বলেছেন, মৃতের গলায় কালো দাগ ছিল, জিহ্বা দাঁত দ্বারা কামড়ানো অবস্থায় ছিল। শরীরে কোনও দাগ বা আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
তবে মৃত বৈশাখীর ভাই ইরতিয়াজ আহামেদ সৌরভ ঢামেক মর্গের সামনে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনকে তার স্বামী শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, তাকে নির্যাতন করা হতো, বৈশাখী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে মাস্টার্স করেন। পড়া অবস্থায় মেহেদী হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমাদের পরিবার থেকে প্রথমে বিয়ে না মেনে নিলেও পরে মেনে অনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান করা হয়। কয়েক বছর ভালোভাবে কাটলেও বছরখানেক ধরে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন করতো।
ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘বৈশাখীর ভিসরা ও নেকটিস্যু ও ব্লাড সংগ্রহ করা হয়েছে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।’ 

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বৈশাখী ছিলেন ছোট। রাতে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

/এআইবি/এইচআই/

x