পূর্বশত্রুতার জেরে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা রাকিব

শেখ জাহাঙ্গীর আলম ২২:১৯ , ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৮





নিহত ছাত্রলীগ নেতা রাকিবপূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর বনানীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিল হোসেন রাকিব (২৮) খুন হয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, রাকিবের সন্দেহভাজন খুনী হিসেবে ইতোমধ্যে একই এলাকার সজীব নামে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত নূর ইসলামের জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতালে পুলিশকে সজীবের নাম বলতে পেরেছেন। অভিযুক্ত সজীব পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সজীবকে গ্রেফতার করা গেলে ঘটনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া এ ঘটনায় জসিম নামেও একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাকে এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর মহাখালী টিএনটি কলোনি এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তানজিল হোসেন রাকিব ও তার বন্ধু নূর ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় সজীব দীর্ঘদিন ধরে রাকিবকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বাসার পাশেই আনসার ক্যাম্প মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলে বাসায় ফিরছিলেন রাকিব ও তার বন্ধু নূর। এসময় সজীব ও জসিমসহ কয়েকজন মিলে তাদের ওপর হামলা করে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সজীব হুমকি দিতো বলে গত রমজানে (গত জুন) বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছিলেন রাকিব।
এ বিষয়ে বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সায়হান ওলিউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে রাকিব খুন হয়েছেন বলে আমরা ধারণা করছি। তবে প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবুও সম্ভাব্য সব বিষয় বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে।’
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবেশী সজীবের স্ত্রীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল রাকিবের। পারিবারিক ঝামেলার কারণে সজীবের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে এরপরও সজীবের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে রাকিব যোগাযোগ রেখেছিলেন। এই দ্বন্দ্বের জেরে রাকিবকে প্রায়ই হুমকি দিতো সজীব।
গতকাল বৃহস্পতিবার তানজিল হোসেন রাকিব ও তার বন্ধু নূর ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার পর তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। নূর ইসলাম ঢামেক হাসপাতালের ৩০৩ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে সজীব ও জসীমসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর-৬) দায়ের করেন।
নিহত রাকিবের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাকিবের ঠোঁটের বাম কোণ থেকে বাম চোয়ালসহ থুতনি পর্যন্ত গভীর কাটা জখম, মাথার পেছনে কয়েক জায়গায় ও ঘাড়ে গভীর কাটা জখম, বাম হাতের কনুই, কব্জি ও বুকের কয়েক জায়গায় কাটা জখম রয়েছে।
নিহত রাকিবের বোন দোলন বলেন, ‘সজীব প্রায় সময় আমার ভাইকে হুমকি দিতো। এর জন্য ভাই থানায় একটি জিডিও করেছিল। সজীব, জসিমসহ আরও কয়েকজন আমার ভাইকে হত্যা করেছে। সজীবকে গ্রেফতার করা গেলে পুরো ঘটনা জানা যাবে। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।’
নিহত রাকিবের বন্ধু ফয়সাল আহমেদ রাব্বি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কড়াইল বস্তির সজীব মাদকাসক্ত। প্রায় সময় রাকিবকে হুমকি দিতো সে। জসিমই রাকিবকে হত্যা কুপিয়ে হত্যা করেছে। নূর ইসলাম সুস্থ হলে এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত ছিল সেটি জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিহত রাকিব রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছিলেন। তিতুমীর কলেজে এমবিএতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। গত ৫-৭ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৭ সালে বনানী-১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
রাকিবের বাবা আলতাফ হোসেন বিটিসিএলের লাইনম্যান পদে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনির কল্যাণ-৬০৪ নম্বর বাসায় থাকেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রাকিব ছিলেন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই তারেক হোসেন চাকরিসূত্রে টাঙ্গাইলে থাকেন।

/এইচআই/

x