জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:০৫ , জানুয়ারি ১১ , ২০১৯

single pic template-1 copyজুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতচক্র পরিচালনা করতেন গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানের কর্ণধার প্রদীপ পোদ্দার (৪১)। ডাকাতি করে নিয়ে আসা স্বর্ণালঙ্কার কম মূল্যে চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে কিনে রাখতেন তিনি। চক্রের সদস্যরা কখনও গ্রেফতার হলে তাদের আইনি সহায়তার জন্য উকিলও ঠিক করে দিতেন ওই চক্রের মূলহোতা প্রদীপ পোদ্দার।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দিনগত রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে ডাকাতচক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-১। আটককৃতরা হলেন ডাকাতচক্রের মূলহোতা প্রদীপ পোদ্দার (৪১), দুলাল হোসেন (৩০), রাসেল (২২), জাকির হোসেন (২৬), কোকিলা বেগম ওরফে প্রেরণা ও হাজেরা বেগম। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করা বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব ১-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘চক্রের মূলহোতা প্রদীপ পোদ্দারের টঙ্গীর আফতাব প্লাজায় একটি জুয়েলারির দোকান আছে। জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে তিনি একটি ডাকাতচক্র গড়ে তোলেন। প্রায় সময় এই চক্রের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা দিতেন প্রদীপ। ডাকাতির ঘটনায় চক্রের কোনও সদস্য যদি গ্রেফতার হতো তবে তাদের আইনি সহায়তার জন্য উকিল নিয়োগও করতেন তিনি।’

এছাড়া, গত প্রায় ১০ বছর ধরে প্রদীপ ইয়াবা সেবন ও এর ব্যবসাও চালিয়ে আসছিলেন বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘ডাকাতচক্রের সদস্য আটক দুলাল পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। সে উত্তর বাড্ডা থেকে গার্মেন্টস পণ্য কিনে গাজীপুর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। এই সুযোগে বিভিন্ন বাসায় ঢুকে বাসার সদস্যদের গতিবিধি লক্ষ করতো। বাসার দরজা ভেঙে চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় ডাকাতি করতো এবং মালামাল লুট করে নিতো।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে টঙ্গীর একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুলালকে দেখা গেছে। দুলাল এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হন এবং প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেছিলেন। এরপর জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ শুরু করেন। চক্রের অপর সদস্য রাসেল ও জাকির তার সঙ্গে অসংখ্যবার চুরি-ডাকাতির কাজে অংশ নেন। এদিকে দুলালের স্ত্রী কোকিলা এবং দুলালের মা হাজেরা ডাকাতির মালামাল নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতো। এই চক্রের আরও সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

 

 

/এসজেএ/এমএএ/এমওএফ/

x