‘জরায়ু ক্যানসার রোধে বাল্যবিয়েকে না বলুন’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:৫৫ , জানুয়ারি ১২ , ২০১৯

জরায়ু মুখের ক্যানসার পরিস্থিতি ও উত্তরণে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা‘বাংলাদেশে বাল্যবিয়েকে জোর গলায় না বলতে হবে। বাল্যবিয়ের কারণে শতকরা ৫৪ ভাগ নারীর জরায়ু ক্যানসার হয়ে থাকে। যেসব মেয়ে ১৬ বছরের আগে বিবাহিত জীবনযাপন করে তাদের জরায়ুর ক্যানসার অবশ্যম্ভাবী।’
শনিবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জরায়ু মুখের ক্যানসার সচেতন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত 'জরায়ু মুখের ক্যানসার পরিস্থিতি ও উত্তরণে করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন চিকিৎসক ও গবেষকরা।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে জরায়ু ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব, যদি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আগে থেকে সচেতন করা যায়। এ ব্যাপারে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতাও প্রয়োজন। বাল্যবিয়ে আইন করে বন্ধ করা হলেও কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ অপরিণত বয়সে মেয়েরা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে তারাই বেশি জরায়ুর ক্যানসারে ভোগে।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলোজি বিভাগের অধ্যাপক স্বপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘কাউন্সিলের জন্য হাজারও রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে অনেক টাকা খরচ করছে। যদি আমাদের দেশে সঠিক ডায়াগনসিস করা হতো, তাহলে হয়তো এই অবস্থা হতো না।’
গোলটেবিল বৈঠকে মার্চ ফর মাদারের প্রধান সমন্বয়ক ও ক্যানসার হাসপাতালের ডিন ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন এনআইসিআরএইচ-এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শেখ গোলাম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মেয়েদের বাল্যবিয়ে না দেওয়ার জন্য পরিবারের কর্তাদের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

/এইচএন/ওআর/

x