কারাগারের বাইরে আসামিকে সংশোধন প্রশ্নে আইন পালনের নির্দেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৫:৫১ , ফেব্রুয়ারি ১২ , ২০১৯

সুপ্রিম কোর্টদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডিত অপরাধীদের সাজা ভোগের ক্ষেত্রে কারাগারের বাইরে রেখে আসামির সংশোধন সংক্রান্ত দ্য প্রোবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০-এর বিধানের যথাযথ প্রয়োগ ও প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পরে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারাগারের বাইরে আসামিকে রেখে তার সংশোধনে সুযোগ দিতে আমাদের দ্য প্রোবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০ নামে একটি আইন রয়েছে। কিন্তু আইনটির বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্বল্প সাজার আসামিরা কারাগারে বড় অপরাধীদের সঙ্গে থেকে অনেকক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে বড় অপরাধী হয়ে উঠছে। তাই এ সংশ্লিষ্ঠ আইনের বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই দণ্ডিত অপরাধীদের সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। এতে দেশের কারাগারগুলোতে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াসহ দেশের একটি প্রচলিত আইনের বিধানকে সরাসরি অবজ্ঞা করা হচ্ছে। এতে কারাগারের পরিবেশসহ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দ্য প্রোবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০-এর বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীকে সবক্ষেত্রেই সাজা আরোপ করা আইন সমর্থন করে না; কেন না সাজা প্রদানের অন্যতম উদ্দেশ্য সংশোধনমূলক; প্রতিহিংসামূলক নয়। সাজা দেওয়ার ওই আদর্শিক বিষয় বিবেচনায় রেখে অপরাধীদের বয়স, আচার-আচরণ, দৈহিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত আইনের বিধানগুলোর যথাযথ প্রয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। কোনও অবস্থাতেই প্রচলিত আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা করা বা প্রয়োগ না করা শুধুমাত্র অনাকাঙ্খিতই নয় বরং অসদাচরণের শামিল।’

তবে এই বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনাবলী অনুসরণে কোনও সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে বা কোনও বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত আইন প্রতিপালনে অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনার জন্য স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

/বিআই/টিটি/

x