‘নুর, আপনাকে আমরা অ্যাকসেপ্ট করতে পারছি না’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:৪৪ , মার্চ ১৯ , ২০১৯

আবরার নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে কুড়িলে আসেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। (ছবি: ফোকাস বাংলা)

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর নব-নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর রাজধানীর প্রগতি সরণিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই আগমনকে স্বাভাবিকভাবে নেননি আন্দোলনকারীরা। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে থামিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে দেন মায়েশা নূর নামে বিইউপির এক ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘নুর আপনাকে আমরা অ্যাকসেপ্ট করতে পারছি না।’

মায়েশার এই বক্তব্যে সমর্থন দেন উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মায়েশা বাধা দেওয়ার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভিপি নুরকে ‘ভুয়া, ভুয়া’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেন। ভিপি নুরুল হক সাধারণ শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ তাকে জটলার মাঝ থেকে বাইরে নিয়ে আসেন।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলতে ব্যর্থ হয়ে নুরুল হক নুর একটু সামনে এগিয়ে আসেন। তারপর তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে আছে। কোনোভাবেই এই আন্দোলন দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

আবরার নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে কুড়িলে আসেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। (ছবি: ফোকাস বাংলা)

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কোটা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং আমাদের ওপরে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখানেও বাস পুড়িয়ে সাধারণ ছাত্রদের ওপরে দোষ দিতে চেয়েছিল একটি চক্র। কিন্তু সাধারণ ছাত্ররা এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত নয়।’

নুর চলে যাওয়ার আধাঘণ্টা পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনের সার্বিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের কথা বলেন মায়েশা নুর। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আটদফা দাবি দিয়েছি। এটা গণমাধ্যমে চলে এসেছে। আমাদের এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন না। আমাদের এই আন্দোলনে রাজনৈতিক কোনও দল বা ব্যক্তিকে গ্রহণ করবো না। সবাই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেবেন। আমরা আমাদের অভিভাবকদের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস-বিইউপি’র বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এসময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর থেকে ওই এলাকার রাস্তা অবরোধ করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় দশঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

 

/এআরআর/আরজে/টিএন/

x