রেলওয়ের ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের তালিকায় গোপনে সাবেক মন্ত্রীর পিও’র প্রতিষ্ঠান

শাহেদ শফিক ১৫:৫১ , এপ্রিল ১৫ , ২০১৯

বাংলাদেশ রেলওয়েবাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে খাবার গাড়ি ও স্টেশনের উচ্চশ্রেণির ভোজনালয়ের ক্যাটারারের তালিকায় গোপনে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন বিবেচনা করে ওই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও এবার তা করা হয়নি। এ নিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,সাবেক ওই মন্ত্রীর সুপারিশের কারণে তারা প্রতিষ্ঠান দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

জানা গেছে, এর আগে রেলওয়ের ক্যাটারার নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করা হতো। এর পর সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। কিন্তু এবার তা করা হয়নি। রেলওয়ের সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের ‘সুপারিশে’ প্রতিষ্ঠানটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের খাবার গাড়ি ও স্টেশনের উচ্চশ্রেণির ভোজনালয়ের ক্যাটারার নিয়োগের বিষয়ে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন রেলওয়ে পশ্চিমের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন রেলওয়ে পশ্চিমের এফএঅ্যান্ডসিএও, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট। এই কমিটি ২০১১ সালে ৮ সেপ্টেম্বর কমিটির আহ্বায়কের অফিসে একটি সভা করে। সে সময় পত্রিকার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করা হয়।

কিন্তু সম্প্রতি আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু এজন্য কোনও বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়নি। গোপনে সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হকের ব্যক্তিগত সহকারী খুরশিদ আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজ ও খুরশিদ আলমের বন্ধু খোরশেদুর রহমানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেআর ক্যাটারার্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৫টি প্রতিষ্ঠানের। এই অনিয়মের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এনকে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান গত ৭ এপ্রিল রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলওয়ে পশ্চিমের জেনারেল ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি মন্ত্রণালয় থেকে হয়েছে। আমার এখান থেকে কিছুই হয়নি। এজন্য আরও একটা বিভাগ আছে। সেটি হচ্ছে কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্ট।

তিনি এও বলেন, মন্ত্রী মহোদয় বলে দিয়েছেন বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর কারও খাবারের মান ভালো নয়। সেজন্য এটা করা হচ্ছে। তবে গোপনে কেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের।

তবে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) শাহ নেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটা জেনারেল ম্যানেজার সাহেবের এখতিয়ার। তবে যতদূর জানি এতে আগের মন্ত্রী সাহেবের রিকোয়েস্ট ছিল। সে কারণে হতে পারে। তবে আগে যা হয়েছে, এখন আর হচ্ছে না।

তবে তালিকাভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বিল্লাল হোসেন ব্রাদার্স কোং, হাবিব বাণিজ্য বিতান, মো. শহীদুল হক বিশ্বাস, সুরুচী ফাস্ট ফুড, শরীফ হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারার। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে খাবার ও স্টেশনের উচ্চশ্রেণির ভোজনালয়ে খাবার সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

/টিএন/এমএমজে/

x