বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন ভাবাপন্ন শিক্ষক: তোফায়েল আহমেদ

ঢাবি প্রতিনিধি ০০:৪৯ , এপ্রিল ১৬ , ২০১৯

ডাকসু ও হল সংসদের নেতাদের ডাকসুর সভাপতি থাকার অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি।

ডাকসু’র অভিজ্ঞতা শোনাতে এসে শিক্ষক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য  ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘আমাদের সময়ে শিক্ষকরা রাজনীতি করতেন না, ছাত্ররা তাদের শ্রদ্ধা করতো। এখন আমাদের শিক্ষকরা কেউ করে নীল পরিষদ, কেউ করে জিয়া পরিষদ। এখন আমার সামনে যেসব শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক রয়েছেন, এরাও কিন্তু ভাবাপন্ন শিক্ষক। অন্য ভাবাপন্ন শিক্ষক এখানে নেই।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নব নির্বাচিত ডাকসু ও হল সংসদ সদস্যদের জন্য ‘ডাকসু ও হল সংসদ : অভিজ্ঞতা শুনি সমৃদ্ধ হই’ শীর্ষক  অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।  আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে।

নিজেদের সময়কার কথা উল্লেখ করে সাবেক বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতি যদি ছাত্রদের ভালোবাসা থাকে, শ্রদ্ধা থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো থাকে। তবে, একটা কথা না বললেই নয়, এটা আমি দ্বিধাহীন চিত্তে বলবো। আমাদের সময়ের শিক্ষকরা রাজনীতি করতেন না। যার জন্য প্রত্যেকটি ছাত্র শিক্ষকদেরকে শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু এখন ‘আমাদের শিক্ষকরা’...।

তোফায়েল আহমেদ থেমে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিকে তাকিয়ে বলেন ‘কিছু মনে করবেন না’। এরপর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মুহাম্মদ সামাদ তাঁকে বলার জন্য আহ্বান জানান। তোফায়েল আহমেদ তার বক্তব্য সম্পন্ন করেন।

আগের বাক্য সম্পন্ন করে তিনি বলেন, (আমাদের শিক্ষকরা) কেউ করে নীল পরিষদ, আবার কেউ করে জিয়া পরিষদ। এখন আমার সামনে যেসব শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক রয়েছেন (উপাচার্যের বাসভবনে) এঁরা কিন্তু ভাবাপন্ন শিক্ষক। অন্য ভাবাপন্ন শিক্ষক কিন্তু এখানে নেই।’ 

শিক্ষকদের উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরাও ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন। তখন ছাত্রসমাজও শিক্ষকদেরকে সম্মান করবেন।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদ এমপি বর্ণাঢ্য ছাত্র জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডাকসু গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার জন্য ডাকসু নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মতো সামাজিক অবক্ষয় রোধেও তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর একদিনও হলে থাকিনি’ উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরও এই নীতি অনুসরণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। ডাকসুর পক্ষ থেকে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যার কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি তিনি দেখেননি বলে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘ডাকসুর পক্ষ থেকে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়নি। যা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।

এসময় তিনি ডাকসুর নেতৃবৃন্দদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান। ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকল ছাত্রের প্রতিনিধি। আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করবেন। ঐক্যবদ্ধভাবে সকলের পরামর্শ নিয়ে কাজ করার জন্য ডাকসু নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডাকসুকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট উল্লেখ করে এর দায়িত্ব সম্পর্কে সচেষ্ট থাকতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তোফায়েল আহমেদ। অছাত্ররা যাতে আর হলে থাকতে না পারে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ডাকসুর প্রতিনিধিদের পদক্ষেপ নিতে বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক এবং ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মুশতাক হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন এবং বিভিন্ন হল সংসদের সভাপতিবৃন্দ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এখানে কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার পূর্বের ছাত্র আন্দোলন এবং বর্তমানের ছাত্র আন্দোলনের গতি, প্রকৃতি ও ধরন ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমৃদ্ধ জাতি গঠন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ডাকসু ও হল সংসদ প্রতিনিধিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ বিভিন্ন হল সংসদ ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। তবে ডাকসুর বর্তমান নেতাদের কেউ মঞ্চে বক্তব্য রাখেননি।

 

 

/টিএন/

x