আমিনবাজারে ৬ ছাত্র হত্যা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৬:৩২ , জুন ১২ , ২০১৯

আদালতসাভার আমিনবাজারের ৬ ছাত্র হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল হকের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। বুধবার (১২ জুন) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কামরুন্নাহার এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে আংশিক জেরা করেন। এরপর পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২৭ জুন তারিখ ধার্য করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাছির উদ্দিন এই তথ্য জানান।

এই মামলায় মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৩ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

এর আগে, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলাচরে  ঘুরতে যান সাত বন্ধু। ওই সময় ডাকাত সন্দেহে তাদের মধ্যে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর ডাকাতির অভিযোগে আল-আমিনসহ নিহতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি ডাকাতির মামলা করেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক। ওই সময় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

নিহতরা ছাত্ররা হলেন—ধানমন্ডি  ম্যাপললিফের এ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব ও বাঙলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত।ওই ঘটনায় নিহতদের বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত হলেও বেঁচে যান ।

এরপর ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি তদন্ত শেষে র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে  অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা নিরীহ ছাত্রদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে জখম করে। পরবর্তী সময়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মসজিদের মাইকে সবাইকে ডাকাত আসার ঘোষণা দেয় এবং থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়।

এরপর হত্যা মামলাটি ২০১৩ সালের ৮ জুলাই আদালত ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ( চার্জ) গঠন মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন।

/টিএইচ/এমএনএইচ/

x