পুলিশ নয়, ইমিগ্রেশন অধিদফতরকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

চৌধুরী আকবর হোসেন ১১:৩৫ , জুন ১৮ , ২০১৯

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনদেশের স্থল ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশনের কাজ করছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। তবে এ কাজটি  ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের নিজস্ব জনবল দিয়ে সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে মন্ত্রপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি। ৫ জুন রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন পার হয়ে কাতারে যান। সেই ঘটনায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার (১৭ জুন) তদন্ত  প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। প্রতিবেদনে এই সুপারিশ ছাড়াও আর ৯-১০টি সুপারিশ করেছে কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিমানের পাইলটের পাসপোর্ট ছাড়া কাতার যাওয়ার ঘটনায় ৭ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিকে ঘটনার অনুসন্ধান ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় কোনও ত্রুটি আছে কিনা, সে বিষয়েও সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল।

তদন্ত কমিটির সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের হাতে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম। ৭ জুন গঠিত চার সদস্যের কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আরও  দুই জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে ছয় কর্মদিবসের অনুমোদন নেয় কমিটি।

সূত্র মতে, কমিটির  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ভুল করেই পাসপোর্ট ছাড়া বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। এছাড়াও কমিটি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আরও  ৯-১০টি সুপারিশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন

কমিটির সুপারিশে বলা হয়, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের দায়িত্ব ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের। এ সংস্থাটির জনবল সংকট থাকায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্জ  ইমিগ্রেশনের কাজটি করে থাকে। তবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নিতে হবে। 

জানা গেছে, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন একটি সংস্থা। নাগরিকদের বিদেশে যাতায়াতে সহায়তা করতে ১৯৬২ সালে একটি পরিদফতর হিসেবে যাত্রা করে সংস্থাটি।  স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে  ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর  প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ সংস্থার জনবল ১১৮৪ জন। সংস্থাটি ঢাকা,  চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনায়  ছয়টি কার্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট প্রদান করছে। ২০১০ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটির গাইডলাইন অনুসারে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) দেওয়ার কাজ শুরু করে  ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর। ২০১৯ সালের  ২১ এপ্রিল  পর্যন্ত ২,৪০,৫৮,৬৮০টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও ১২,৫৫,৬১২টি মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি)  মুদ্রণ করেছে সংস্থাটি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি আমরা ৯-১০টি সুপারিশ দিয়েছি।’ প্রতিবেদনে ইমিগ্রেশন প্রসঙ্গে কোনও সুপারিশ আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইমিগ্রেশন নিয়েও আমাদের সুপারিশ আছে। বর্তমানে পুলিশ ইমিগ্রশনের দায়িত্ব পালন করছে। তারা সরকারের অনুমোদন নিয়েই এ কাজ করছে।  এটা সত্য যে, এ কাজটি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের করার কথা। তবে তাদের প্রয়োজনীয় জনবল এখনও তৈরি হয়নি। এসব বিষয়ে আমাদের বেশ কিছু সুপারিশ আছে।’

 

/এপিএইচ/

x