‘বান্ধবীর সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে দ্বন্দ্বে হত্যা করা হয় শুভকে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:৪৪ , জুলাই ১২ , ২০১৯

আটক চার কিশোরবান্ধবীর সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে দুই গ্যাং গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে গাজীপুরের টঙ্গিতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ আহমেদ (১৬) খুন হয়। আর ঘটনার দিনই স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে শুভকে হত্যা করার পরিকল্পনাটি সাজায় গ্রেফতারকৃত চার আসামি। শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দিনগত রাতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। এই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা হলো– মৃদুল হাসান পাপ্পু ওরফে পাপ্পু খান (১৭), সাব্বির আহমেদ (১৬), রাব্বু হোসেন রিয়াদ (১৬) ও নূর মোহাম্মদ রনি (১৬)।

এর আগে গত ৭ জুলাই টঙ্গি পূর্ব থানাধীন পাগার মদিনাপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে শুভ আহমেদ (১৬) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

এ সময় র‌্যাব-১-এর সিও বলেন,  ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে গাজীপুরের টঙ্গিতে ভয়াবহ কিশোর গ্যাং কালচার সক্রিয় থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াই। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করি। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আটক সাব্বির হাজী সাইদ ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এছাড়া ভিকটিম শুভ এবং আটক বাকি তিনজন ফিউচার ম্যাপ স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই ক্লাসের শিক্ষার্থী হলেও শুভ ও আটক চারজন আলাদা দুটি গ্যাং গ্রুপের সদস্য।’

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার আগের দিন শুভর সঙ্গে পাপ্পু, রাব্বু ও রনি স্কুলের শিক্ষা সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় গ্রন্থাগার ও জাদুঘরে যায়। ফেরার পথে পাপ্পু ও তার বান্ধবী একই সিটে বসে। এ সময় শুভ মোবাইলে তাদের ছবি তুলে অন্য সবাইকে দেখিয়ে ঠাট্টা করে। ছবি তোলায় পাপ্পু ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে শুভর সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। নিজের গ্রুপের সদস্যকে নিয়ে ঠাট্টা করার প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করতে থাকে পাপ্পুর গ্রুপের সদস্যরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে কৌশলে শুভকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সাব্বির ও রাব্বু কাছে থাকা সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে শুভর বুকে-পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে। রনি সাব্বিরের কাছ থেকে ছুরি নিয়ে শুভর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।

কিশোর বয়সীদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব গ্যাং কালচার সাধারণত এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এর আগেও এসব গ্রুপের মধ্যে অনেকগুলো মারামারির ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলার কোনও মামলা হয়নি। কিশোরদের মধ্যে হত্যার প্রবণতার কারণ হলো সমাজের ক্ষয়িষ্ণুতা। এছাড়া, মাদকের একটা প্রভাব রয়েছে।’

ওই এলাকার গ্যাং কালচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে গাজীপুরের টঙ্গি বিসিক এলাকায় আরও পাঁচ-ছয়টি গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্য রয়েছে। আমরা এসব গ্যাং কালচার গ্রুপের মূলে যাব। আমি আশ্বস্ত করে বলতে চাই, আগামী পাঁচ-দশ বছর পর্যন্ত ওই এলাকায় আর গ্যাং কালচার দেখতে পাবেন না। এসব গ্যাং কালচারকে সমূলে উৎপাটনের চেষ্টা করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব গ্রুপে রাজনৈতিক কোনও প্রভাবের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।’ তবে, তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কিশোরদের এসব গ্যাং গ্রুপে জড়িয়ে পড়া এড়াতে সন্তানদের ফলোআপে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান সারওয়ার বিন কাশেম।

 

/এসজেএ/এমএএ/

x