গেন্ডারিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৬টি অস্ত্রই লোডেড ছিল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০০:৪৭ , জুলাই ২০ , ২০১৯

শ্যামপুরের গেন্ডারিয়া কাঁচা বাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্র-গুলি সরবরাহ করছিল তিনজন। আর এসব অস্ত্র-গুলি মিরপুর থেকে একটি ব্যাগে করে নিয়ে আসে পাঠাও চালক শওকত হোসেন। আটক হওয়া ওই তিনজনের কাছ থেকে পাওয়া ৬টি অস্ত্রই লোডেড (ভর্তি) ছিল।
শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইব্রাহীম খান।
এর আগে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুরের গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, দুটি রিভলবার, সাতটি ম্যাগাজিন ও ১২৮ রাউন্ড গুলিসহ পাঠাও চালক শওকত হোসেন (৩৮), মিনহাজুল ইসলাম (২৮) ও রাজু গাজীকে (৪৩) আটক করে পুলিশ।
এই অভিযানে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বাকিরা হলেন- উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহাগ চৌধুরী, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুম বিল্লাহ ও কনস্টেবল মাহাবুব।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইব্রাহীম খান বলেন, ‘আটক পাঠাও চালক শওকতের বাইকে করে একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী মিরপুর থেকে শ্যামপুরে আসে। তবে অভিযানের সময় ওই অস্ত্র ব্যবসায়ী সেখানে ছিল না। অস্ত্রের ব্যাগটি পুলিশ পাঠাও চালক শওকতের কাছ থেকে উদ্ধার করে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আরও তিনি-চারজন সদস্য পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টায় শ্যামপুর থানাধীন গেন্ডারিয়া কাঁচা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। আসামি তিনজনই সেখানে চেয়ার পেতে বসে এসব অস্ত্র সরবরাহের কাজ করছিল। ওই খবরে শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি মোবাইল টিম সেখানে যায়। এসআই সোহাগ, এএসআই মাসুম বিল্লাহ ও কনস্টেবল মাহবুব সেখানে গিয়ে আশপাশে অবস্থান নেয়। পৌনে ৯টার দিকে ওখানে কিছু লোক আসে। চেয়ারে বসে। একজন অস্ত্র ব্যাগ থেকে নিয়ে কোমরে গুজে। এরপরই সেখানে ওই পুলিশ সদস্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। পালানোর সময় রাজু গাজী পিস্তল বের করে এসআই মাহবুবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে সৌভাগ্যক্রমে গুলি বের হয়নি। একই সময়ে এএসআই মাসুম বিল্লাহ শওকতকে জাপটে ধরে। পরে শওকতের ব্যাগ থেকে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে কনস্টেবল মাহবুব মিনহাজকে জাপটে ধরতে সক্ষম হয়।’
ডিসি ইব্রাহীম খান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে শওকতের কাছে থাকা কালো ব্যাগের ভেতর থেকে পাঁচটি অস্ত্র ও গুলি, রাজু গাজীর কাছ থেকে একটি লোডেড পিস্তল এবং মিনহাজের কাছ থেকে ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ’
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিসি ইব্রাহীম খান বলেন, ‘শওকত হোসেন একজন পাঠাও চালক। সে পাঠাও অ্যাপস ব্যবহার না করে ৫০০ টাকার চুক্তিতে মিরপুর থেকে একজন যাত্রীকে শ্যামপুরে নিয়ে আসেন বলে দাবি করেছেন। তবে সেখানে ওই যাত্রীকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু অস্ত্রের ব্যাগটি শওকতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ’
এদিকে, রাজু গাজীকে শুক্রবার সকালে গেন্ডারিয়া কাঁচা বাজারে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতেই। তার কাছে একটি অস্ত্র আরও একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। তবে কার কাছে দিতে হবে, সেটি জানার আগেই পুলিশকে দেখে তারা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এসব অস্ত্র-গুলি কোথায় থেকে কে এবং কী কাজের জন্য পাঠিয়েছে বা আটক আসামিরা নিয়ে এসেছে সে বিষয় এখনও জানা যায়নি। তবে আমরা মূলহোতা কে এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। তদন্ত শেষ করার পর অস্ত্রের যোগানাদাতা, অস্ত্রের উৎস জানা যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিন কারণে এসব অস্ত্র আনতে পারে তারা। কোনও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আবার অস্ত্রগুলো কেনাবেচা অথবা কাউকে অস্ত্রগুলো ভাড়া দিতে শ্যামপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তবে ঠিক কী উদ্দেশে অস্ত্রগুলো তারা এনেছিল সেটি জানার চেষ্টা চলছে।’
গ্রেফতারদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: 
গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩

/এসজেএ/এআর/

x