রিফাত হত্যা ফরেনসিক পরীক্ষায় ০০৭ গ্রুপের ডিভাইস ও লিংক

আমানুর রহমান রনি, বরগুনা থেকে ০২:৫৫ , জুলাই ২৪ , ২০১৯

রিফাত হত্যাকাণ্ডবরগুনায় রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন ডিভাইস ও ফেসবুক পেজের নমুনা পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছে পুলিশ। আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) এসব আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এসব আলামতের মধ্যে নয়ন বন্ড ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির কোনও ডিভাইস আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস পাঠানো হয়েছে কিনা তা পরীক্ষার আলামত তালিকায় উল্লেখ নেই। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

ফরেনসিক ল্যাবে যেসব ডিভাইস ও ফেসবুক পেজ 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরগুনা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার করা মালামাল ও আলামতের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি মোবাইল ফোন, একটি পেনড্রাইভ, ১০টি ফেসবুক আইডি ও ০০৭ গ্রুপ থেকে ডাউনলোড করা তথ্য, একটি ই-মেইল আইডি এবং ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের ২৬টি স্ক্রিনশর্ট ও প্রোফাইলের ছবি পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো ফেসবুক আইডিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আরিয়ান শ্রাবণ, কামরুল হাসান সাইমুম, রাব্বি আকন (কারাগারে), রেজওয়ান খান (টিকটক হৃদয়, কারাগারে) এবং রিফাত ফরাজী (কারাগারে)। পেনড্রাইভে ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের ২৬টি স্ক্রিনশর্ট ছাড়াও পুলিশের উদ্ধার করা একটি ‘ক্লোজ’ ফেসবুক গ্রুপের তথ্যও রয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির আলামত ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিন্নির চিকিৎসার আবেদন খারিজ যে কারণে
আদালতে মিন্নির অসুস্থতার কথা বলে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলেও তার পক্ষে কোনও কাগজপত্র দাখিল না করায় আবেদন খারিজ হয় মিন্নির আইনজীবীর। আদালত আবেদন খারিজ করে আদেশে বলেছেন, ‘মিন্নির আইনজীবী শুনানির সময় সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে আসামি গুরুতর অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন। কারাগারে কেউ অসুস্থ হলে কারাবিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে। কারা কর্তৃপক্ষ মিন্নির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, আসামিপক্ষের আইনজীবী কোনও দলিল উত্থাপন করতে পারেননি। তাই আসামিপক্ষের দাখিল করা চিকিৎসার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।’

নয়ন বন্ডসহ তিন জনের সঙ্গে মিন্নির ফোনে কথা বলার অভিযোগ
শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যায় অংশ নেওয়া নয়ন বন্ডসহ অন্তত তিন জনের সঙ্গে ঘটনার আগে ও পরে অনেকবার একাধিক নম্বর থেকে মোবাইলে কথা বলার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মিন্নির রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ‘২৬ জুন মো. শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মিন্নি কলেজে নিয়ে যায়। হামলার আগে ও পরে অসংখ্যবার নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী এবং আরিয়ান শ্রাবণের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে।’ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সেই কথোপকথনের নথি উপস্থাপন করেন।

মিন্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার বাবার
মিন্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তার বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: 

স্বামীকে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ নারীর, তবুও শেষ রক্ষা হলো না

নতুন ফুটেজে রিফাতের ওপর হামলার দৃশ্য (ভিডিও)

‘মিন্নিকে না ফাঁসিয়ে সঠিক তদন্ত করেন, মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে’

কলেজের গেট থেকে রিফাতকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে কয়েক যুবক’

জোরজবরদস্তি করে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, দাবি বাবার

 

 

/এআরআর/ওআর/এমএমজে/

x