৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না যে ভবনটি

শেখ জাহাঙ্গীর আলম ১১:৩৯ , আগস্ট ১৩ , ২০১৯

এখানে নির্মিত হবে ফায়ার সার্ভিসের দশ তলা ভবন

দেশে প্রথমবারের মতো বেজ আইসোলেশন টেকনোলোজি ব্যবহার করে রাজধানীর মিরপুরে ভবন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে গণপূর্ত অধিদফতর। তারা বলছে, আট মাত্রার ভূমিকম্পেও এই ভবনের কোনও ক্ষতি হবে না। ভবনের নির্মাণ শৈলী দেখে দেশীয় প্রকৌশলীরা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি- জাইকা’র অর্থায়নে ১০ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৪ কোটি টাকা।

নির্মাণাধীন ভবনটি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

ফায়ার সার্ভিস অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দেশে আট মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভবনের বেজ নড়চড়া (আইসোলেশন) করতে পারে, কিন্তু সেটি ধসে যাবে না। জাপানের এই টেকনোলোজির নাম ‘বেজ আইসোলেশন টেকনোলোজি’।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ভবনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে, সামাজিক ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে জাইকার সহায়তা তহবিল থেকে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের জন্য ভূমিকম্পসহিষ্ণু প্রধান কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ভবন নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় ২০১৫ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন ভবন নির্মাণের মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটির মেয়াদকাল কমিয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে মিরপুর ১০ নম্বরে  প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানকার ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সের পুরনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কংক্রিটের আবর্জনা ডাম্পিং শেষে মাটি ভরাট ও সমান্তরাল করার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি ঢাকার বাইরে অন্য কোথাও নতুন করে স্থাপন করা হবে। 

ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের জন্য নির্ধারিত স্থান

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (কল্যাণ ট্রাস্ট) মো. আতাউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেজ আইসোলেশন টেকনোলোজি ব্যবহার করে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনও ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটি নির্মাণ হলে ফায়ার সার্ভিস অধিদফতর গুলিস্তান থেকে সরিয়ে মিরপুরে নেওয়া হবে। এই ভবনের সব কিছুই আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে।’

সংস্থার পরিচালক (পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিরপুরে ফায়ার সর্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের নতুন ভবনের স্থাপত্য-নকশার অনুমোদন হয়ে গেছে। কাজের জন্য দরপত্রের আহ্বান করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের নতুন ভবনে আধুনিক সব ব্যবস্থা রাখা হবে। সেখানে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও, ভবনের টপ ফ্লোরে থাকবে একটি হেলিপ্যাড।’

ফায়ার সার্ভিসের নির্মিতব্য ভবনে যেসব সুবিধা থাকছে

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ১০ তলা ভবনটি আট মাত্রার ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। পুরো ভবনটিতে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকবে। ভবনের বেজমেন্টে পর্যাপ্ত পানি মজুতের জন্য থাকবে রিজার্ভ ট্যাংক। সেই সঙ্গে রাখা হবে ফায়ার হাইড্রেন্ট। প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে স্মোক/হিট ডিটেক্টর, বাল্ব ও রাইসার, একাধিক বহির্গমন ও নির্গমন পথ এবং টপ ফ্লোরে থাকবে হেলিপ্যাড।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিতে করা হবে ভবনের বৈদ্যুতিক লাইন ও ওয়্যারিং। এমনকি শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের এই ভবনটি সক্রিয় থাকবে। দেশের যেকোনও ভবনের তুলনায় ফায়ার সার্ভিস ভবনটি হবে সবচেয়ে নিরাপদ একটি ভবন। 


/এসজেএ/এএইচ/

x