হোসনি দালানে হামলা: যে কারণে এগোচ্ছে না মামলা

তোফায়েল হোছাইন ২৩:০০ , সেপ্টেম্বর ০৯ , ২০১৯

তাজিয়া মিছিলে হামলার পরবর্তী দৃশ্য (ছবি সংগৃহীত)পুরান ঢাকার হোসনি দালানে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা মামলার কার্যক্রম এগোচ্ছে না। দীর্ঘ চার বছরেও মামলাটির বিচার কাজ শেষ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্টদের দাবি, আইনগত কিছু ত্রুটি থাকার কারণে আদালতে সাক্ষী হাজির হওয়ায় পরেও বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারেননি। যে কারণে মামলার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে পবিত্র আশুরার মিছিলের প্রস্তুতিকালে তাজিয়া মিছিলে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ওই ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক শফিউদ্দিন ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।আদালত ২০১৭ সালের ৩১ মে ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগপত্রে ৪৬ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১১ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর থেকে আর কোনও সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেননি।

সর্বশেষ সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও ওই দিনেও ট্রাইবুনালে সাক্ষী হাজির না হওয়ার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। বর্তমানে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

বর্তমানে মামলার আসামিদের মধ্যে কবির হোসেন, জাহিদ হাসান, রুবেল ইসলাম, আবু সাঈদ, আরমান ও মাসুদ রানা কারাগারে আটক আছেন। হাফেজ আহসান উল্লাহ মাসুদ, শাহ জালাল, ওমর ফারুক ও চাঁন মিয়া জামিনে আছেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলাটি বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন ছিল। গত বছর মামলাটি সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়ে আসে। এ পর্যন্ত মামলাটির ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণের মাঝখানে জাহিদ হাসান নামে এক আসামি নাবালক বলে তার আইনজীবী অধিকতর তদন্ত করে পৃথক অভিযোগপত্রের আবেদন করেন।

বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর চলতি বছরের ১৩ মে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি জাহিদ হাসানকে নাবালক দেখিয়ে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালে। এরপর ২৯ জুন বিচারক অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

তাজিয়া মিছিলে হামলার পরবর্তী দৃশ্য (ছবি সংগৃহীত)আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি আসার পর কিছু সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারলেও পরে আইনগত ত্রুটির কারণে আর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করছি, এখন থেকে নিয়মিত সাক্ষী আদালতে হাজির করে বিচার কার্যক্রম শেষ করতে পারবো। ইতোমধ্যে সাক্ষীদের প্রতি জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পেশকার রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলায় মাসুদ রানা নামে এক আসামির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় বিচারক আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্যও একই দিন (২৪ সেপ্টেম্বর) ধার্য রয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপক্ষের। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষী উপস্থিত না করায় মামলাটির সাক্ষ্য হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, পুরান ঢাকার হোসনি দালানের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা মামলার সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরও তারা আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন না। সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করার দায়িত্ব পুলিশের। সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করার বিষয়ে পুলিশকে আরও সচেতন হতে হবে।

 

/টিএইচ/টিটি/

x