রোহিঙ্গাদের নামে পাসপোর্ট, নারায়ণগঞ্জে আটক ৬

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:১৫ , সেপ্টেম্বর ১১ , ২০১৯

আটক ছয় জননারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পাসপোর্ট অফিস থেকে রোহিঙ্গাদের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করার ঘটনায় ছয় জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে র‌্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালানো হয়।

মহিউউদ্দিন ফারুকী জানান, ‘পাসপোর্টে অফিসের পাশের ফটোস্ট্যাটের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে অন্তত ২৫ হাজার ভুয়া নাগরিক সনদ জব্দ করেন। রোহিঙ্গাদের নামে ইস্যু হওয়া অন্তত ১২-১৩টি পাসপোর্ট পেয়েছেন। আরও অসংখ্য ভুয়া ঠিকানার কাগজপত্রও পেয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

মহিউউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘আটক ছয় জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাসপোর্ট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনও রোহিঙ্গাকে পাওয়া যায়নি।’

আটকরা হলো- নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনার একটি ইউপির উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকার একটি সিটি করপোরেশনের মাঈন উদ্দিন (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)।

র‌্যাব জানিয়েছে, এসময় সিটি করপোরেশনের সিল, ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সিল, সনদের হার্ড কপি ও সফট কপির হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছে। ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারি আসামি, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশি দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য আগ্রহী লোকজনের নামে জন্ম সনদ তৈরি করে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্ম সনদের তথ্য ভাণ্ডারে থাকা তথ্যের মিল পেলে পাসপোর্ট পেয়ে যেত। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার নাম, বাবার নাম, বয়স, ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করলে তাদেরকে বিমান বন্দরে আটকানো যেত না। এভাবে ভুয়া তথ্যে দেশের বেশ কয়টি এলাকা থেকে ১৩-১৪ জন রোহিঙ্গা জন্ম সনদ নিয়েছে।

র‌্যাব-২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা সদস্য, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের জন্ম মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ন্যাশনাল সার্ভার থেকে তৈরি করে সরবরাহ করতো। এদের কাছ থেকে জব্দ করা কম্পিউটার ও ল্যাপটপের  হার্ডডিস্ক চেক করে ২৫ হাজারের অধিক জন্ম সনদ ও হার্ড কপি পাওয়া গেছে। এরা রোহিঙ্গাদেরকেও জন্ম সনদ তৈরি করে দিয়ে পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করে। ইতোমধ্যে তারা ১৩-১৪ জন রোহিঙ্গাকে জন্ম সনদ তৈরি করে পাসপোর্ট করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে জন্ম সনদ দিয়ে সংগ্রহ করা দুই লক্ষাধিক টাকা, চারটি ল্যাপটপ ও প্রচুর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে জাল কাগজপত্র দিয়ে পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগে একাধিক রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা কারাগারে রয়েছে।

 

/এআরআর/এনআই/

x