পদত্যাগ ও অপসারণ আলোচনায় বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২০:১৯ , সেপ্টেম্বর ২২ , ২০১৯

ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও উপাচার্যের পদত্যাগ ও অপসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে গুঞ্জন শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য নাসিরউদ্দিনকে অপসারণ করা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকেই ফোন করে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চান । উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়নি, গণমাধ্যমকর্মীরা তা নিশ্চিত হওয়ার পর ফের আলোচনায় আসে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। এরই এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীরা নতুন করে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবর শুরু করেন।

এসব বিষয়ে জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আচার্যের সচিব এবং খোদ উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে তাকে অপসারণ করেননি রাষ্ট্রপতি ও আচার্য। আর উপাচার্য নিজেও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দেননি তা নিশ্চিত করেছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য নেই তার কাছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে সত্যানুসন্ধান করা হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’

এদিকে উপাচার্য ড. নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন শুরু হলে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সকাল ১০টার মধ্যেই সব শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়লে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের সূত্রপাত গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে।  তিনি ফেসবুকে নিজের ওয়ালে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দিলে সেটি উপাচার্যের নজরে আনা হয়। এরপর উপাচার্য তাকে ডেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। এরপরই জানা যায়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কারণ জানতে পারলেও দেওয়া হয় কারণ দর্শাও নোটিশ। জিনিয়াকে বহিষ্কারের ঘটনায় তিনি এর প্রতিবাদ জানালে তাকে উল্টো শাসানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর অন্য গণমাধ্যমগুলোও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে। এরপরই ফুঁসে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব শিক্ষার্থী। চাপের মুখে জিনিয়াকে বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহার করা হলেও উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সেখানে আন্দোলন চলছে। আজ রবিবার বিকালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এরপরই উপাচার্যের পদত্যাগের বিভিন্ন গুঞ্জন উঠছে।

 

আরও পড়ুন:

বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় সত্যানুসন্ধান করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

হামলার ২৪ ঘণ্টা পর ‘গণ্ডগোল’ না করার আহ্বান ভিসির

‘সমাধানের বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হতে পারে না’

বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আ.লীগের সংহতি প্রকাশ

 

 

 

 

/এসএমএ/টিএন/

x