‘একটি মতবাদ দিয়ে জীবন পার করা সহজ’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:৫৩ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৯

ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরের শেষ দিন শনিবার (৯ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘ডু আইডিয়াস স্টিল ম্যাটার’ শীর্ষক সেশনে জীবনে মতবাদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। জীবনঘনিষ্ঠ এই আলোচনায় অংশ নেন প্রকাশক মাইকেল ডুয়ের, সমাজবিজ্ঞানী সিউতি সাবুর, সাংবাদিক থমাস রুশে ও প্রাবন্ধিক কেনন মালিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বহুল পঠিত বই ‘মেনি রিভারস অ্যান্ড ওয়ান সি’-এর লেখক জোসেফ অ্যালচিন।

সঞ্চালক জোসেফ অ্যালচিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিউতি সাবুরের কাছে জানতে চান, ‘সমাজে প্রচলিত মতবাদ নিয়ে আপনার মতামত কী?’ সিউতি সাবুর বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে মতবাদ তৈরি হয় মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে কেন্দ্র করে। মধ্যবিত্তরাই বেশিরভাগ মতবাদের অনুশীলন করে। নিম্নবিত্তরা সমাজের বড় অংশজুড়ে থাকলেও তাদের ওপর ভিত্তি করে কোনও মতবাদ দাঁড়াতে পারে না। যেকোনও আন্দোলনের জন্য আমরা আগে একটা মতবাদের ওপর নির্ভর করতাম, কিন্তু বর্তমানে আর মতবাদের প্রয়োজন হয় না।’
এক্ষেত্রে তিনি ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’, ‘নো ভ্যাট আন্দোলন’-এর উদাহরণ টানেন। বলেন, ‘এগুলোর পেছনে কোনও প্রতিষ্ঠিত মতবাদ ছিল না; এগুলো দানাবাঁধে মানুষের মৌলিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে।’
তবে কেনন মালিক বলেন ভিন্ন কথা। তার ভাষায়, ‘মতবাদ ছাড়া কোনোকিছু প্রতিষ্ঠিত হয় না, হলে বেশিদূর এগোতে পারে না। যেকোনও দাবি উত্থাপনের জন্য অবশ্যই এর পেছনের মতবাদ গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রয়োজনের জন্য অনেক আন্দোলন সংগঠিত হয়, কিন্তু সেগুলো একসময় মতবাদের প্রতিষ্ঠা করে, না হয় সেগুলো হারিয়ে যায়। এজন্য মহৎ মতবাদের জন্য একজন অনুকরণীয় নেতার দরকার হয়।’
প্রকাশক মাইকেল ডুয়ের বলেন, ‘মতবাদ নিয়েই আমার কাজ। আমি প্রায় সব মানবিক মতবাদ নিয়েই বই করার চেষ্টা করি। কারণ, জনগণ যেন সব পড়ে জানতে পারে। এতে তারা নিজেরা কোন মতবাদের অনুসারী হবে, সে ব্যাপারে পরিষ্কার হতে পারে। এ জন্য আমার চেষ্টা থাকে মতামতগুলোকে সহজ করে উপস্থাপনের; কখনও কমিক আকারে, কখনও গল্পের বইয়ের মাধ্যমে। এতে সব বয়সী মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো যায়।’
থমাস রুশে বলেন, ‘আমি একটি ম্যাগাজিনের এডিটর, সবসময় আমাকে বিচিত্র ধারণা নিয়ে কাজ করতে হয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য। তখন আমার নিজের মতবাদটা সেখানে থাকে না। জনগণকে একটি মানবিক মতবাদের দিকে অগ্রসরের জন্য আমরা কাজ করি। যেমন আবহাওয়ার ব্যাপারে সচেতন করা।’
জোসেফ অ্যালচিন বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে যখন আমি কাজ করি, তখন এখানে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন চলছিল। বাংলাদেশ মুসলিম-প্রধান দেশ হওয়ার পরও সবাই তাদের মতবাদের সঙ্গে একমত ছিল না। সেজন্যই বলা যায়, মতবাদ দাঁড়ালেও সবাই তাতে একমত হবে— এমন নয়; এমনকি অনুসরণযোগ্য নেতা থাকার পরও।’
দর্শক সারি থেকে প্রশ্ন আসে— সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ সবক’টিতেই কিছু কিছু সমস্যা দেখা যায়, বা পুরোপুরি সঠিক মতবাদ বলতে কিছু দাঁড়ায়নি। সেক্ষেত্রে কোনও মানুষ কি একটি মতবাদ দিয়ে তার জীবনদর্শন নির্ধারণ করতে পারে?
সিউতি সাবুর বলেন, ‘নিজের সমাজে যে মতবাদ প্রতিষ্ঠিত, তা সবাই নাও মানতে পারে। কারণ, মধ্যবিত্তরা সবসময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবে, নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। সেজন্যই একটি মতবাদ দিয়ে জীবন পার করা তাদের জন্য সহজ।’

/এইচআই/এমওএফ/

x