খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা: সরকারের ‘এসিড টেস্ট’, বিএনপি বলছে ইস্যু বদলের কৌশল

পাভেল হায়দার চৌধুরী ও সালমান তারেক শাকিল ২২:১৭ , অক্টোবর ১২ , ২০১৭

 

খালেদা জিয়া ফাইল ছবি সংগৃহীতবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিষয়টিকে সরকারের ইস্যু বদলের কৌশল হিসেবে দেখছে বিএনপি। আর দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার লন্ডন অবস্থানকে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল বলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ কারণে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল কী হতে পারে, তা জানতে বিষয়টিকে ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছে সরকার। উভয় দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য মিলেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া লন্ডনে থাকায় বিএনপির পরিকল্পনা সম্পর্কে অনেকটাই অন্ধকারে রয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিএনপির অবস্থান ও সাংগঠনিক পরিকল্পনার বিষয়টি পরিষ্কার হতে চান সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এই মুহূর্তের ব্যাপার নয়। এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের কারণে হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কোনও কৌশল নেই। আমার প্রশ্ন, তিনি কেন বার বার দেশে ফেরার সময় পরিবর্তন করছেন? তার আইনজীবীরা আদালতের কাছ থেকে বার বার সময় নিয়েছেন। এরপরও তিনি সময়মতো আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি  হয়েছে। আমি মনে করি, ইচ্ছা করেই তিনি এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। আইন অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার ভাষ্যমতে, গত আড়াই বছরে বিএনপি-জামায়াত সাংগঠনিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিভিন্ন মামলায় নেতাকর্মীরা বাড়িছাড়া হলেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাই দল দু’টির নেতাকর্মীরা গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। আগে নগরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যাদের বিচরণ কম ছিল, তারাও এখন দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত হচ্ছেন।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।’

এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন,  প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে যে সংকটের সৃষ্টি, সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বিএনপি-জামায়াতকে বেছে নিয়েছে সরকার। বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রধান বিচারপতিকে জোর করে বিদেশে পাঠানো ও ছুটিতে পাঠানোর ঘটনা বিরল। বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এক্ষেত্রে সরকারের ইস্যু পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গত ১১ অক্টোবর বুধবার একটি হোটেলে প্রধান বিচারপতির প্রসঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করেছে দলটি। এসব বিষয়ে সরকার ভীত হয়েই বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে সরকার হতাশ। এ কারণে দিশাহারা হয়ে প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। এর ফলে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। তাই জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই ধারাবাহিকভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে যাচ্ছে সরকার।’ তিনি মনে করেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রাজনৈতিক সমাধান হবে না। এতে দেশকে চরম নৈরাজ্যের দিকেই ঠেলে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘দেশবাসী জানে, লন্ডনে খালেদা জিয়ার চোখের অপারেশন হয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত চেকআপে আছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দেশে ফিরবেন। তার দেশে ফিরতে বেশি দেরি হবে না। ঠিক এ মুহূর্তে জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিটা সরকারের কুটিল ছক বাস্তবায়নেরই একটি অংশ।’

রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘প্রধান বিচারপতির নাজেহালের দৃশ্য দেখে গোটা বিচার বিভাগ এখন শঙ্কিত। এ জন্য বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এই সুযোগে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হুকুমে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। তাই দেশবাসীও তাই মনে করে।’

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x