বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে: বিএনপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৭:১১ , মার্চ ১৪ , ২০১৮

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা (ছবি: আদিত্য রিমন)বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য, মানুষের শেষ ভরসাস্থল বিচার বিভাগের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্ভাগ্যভাবে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে। তার অভিযোগ, ‘নিম্ন আদালতকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে সরকার। বিচার বিভাগের ওপর চড়াও হয়েছে তারা। বিচার বিভাগকে দলীয়করণের জন্য সুপারসিট করে জুনিয়রদের প্রধান বিচারপতি করছেন।’ বুধবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ভাষ্য, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে যা ঘটেছে, বাংলাদেশে এমন কিছু দেখবো বা শুনবো তা কোনোদিন ভাবিনি। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায় আপিল বিভাগ স্থগিত করে সবাইকে বিস্মিত করেছে। উচ্চ আদালত থেকে দেশের মানুষ যা প্রত্যাশা করে না, সেটাই আজ ঘটেছে।’

ব্যারিস্টার মওদুদের কথায়, আদালত কখনোই বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। দেশের সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। তিনি বলেছেন, ‘শুনানিতে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য উপস্থাপনের পরপরই খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ রবিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের কোনও বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই পক্ষের কথা শুনে উচ্চ আদালত যে কোনও আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু একপক্ষের বক্তব্য শুনে এত তাড়াহুড়া করে এ ধরনের রায় দেওয়া কোনোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। আমরা এটা প্রত্যাশা করিনি। এই রায়ে আমরা ক্ষুদ্ধ ও আশাহত।এ ঘটনায় দেশের উচ্চ আদালতের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ হয়েছে।’

এই আইনজীবীর ভাষ্য, ‘নিম্ন আদালত এখন পুরোপুরিভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সেভাবেই তারা আইন করে নিয়েছেন। আগে প্রধান বিচারপতির ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তা এখন চলে গেছে রাষ্ট্রপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে। আমরা দেখছি— বিভিন্ন আদালতে একটা মামলা শেষে জামিন পেলে আরেকটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি। সুপ্রিম কোর্ট এটা বলে দিয়েছেন। কিন্তু নিম্ন আদালতে কর্মকর্তা ও বিচারপতিরা তবুও তা করছেন। কারণ এসব কর্মকর্তা ও বিচারপতির দায়-দায়িত্ব এখন নির্বাহী বিভাগের কাছে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমার ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পাঁচ বছরের সাজার ক্ষেত্রে আপিল গ্রহণের সময় জামিন দেওয়া হয়। আদালতের কাছে সরকারের একটি বক্তব্য থাকে, সাজাপ্রাপ্তের বিচারিক আদালতে জামিনে ছিল কিনা, পালিয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা রয়েছে কিনা ও মামলাটি কতটা গ্রহণযোগ্য। আমার মনে হয়েছে, খালেদা জিয়ার মামলাটি বিবেচনা করা হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে। হাইকোর্ট তাকে জামিন দেওয়ার পরও আপিল বিভাগের স্থগিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ব্যারিস্টার খন্দকার মাহবুবের ভাষ্য, “আমাদের মনে হচ্ছে, আদালতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। কারণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা চলাকালীন বর্তমান সরকার প্রধান বলেছেন, ‘এতিমের টাকা চুরি হয়েছে।’ অথচ আদালতে আমরা দেখিয়েছি, যে টাকা ট্রাস্ট্রের নামে এসেছে তা এখন তিন গুণের বেশি রয়েছে। সুতরাং টাকা আত্মসাৎ হয়নি। আর খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে আত্মসাতে সহযোগিতার জন্য।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস প্রমুখ।

/এএইচআর/জেএইচ/

x