মনোনয়ন বাতিলের অনুলিপি না পেয়ে সিইসির কাছে আবেদন জামায়াত প্রার্থীর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২৩:১১ , ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা মো. গোলাম রব্বানী তার মনোনয়নপত্র বাতিলের অনুলিপি (সার্টিফায়েড কপি) আবেদন করার সাড়ে ৮ ঘণ্টা পরও না পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আইনি প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র জমা নিলেও রিটার্নিং অফিসার তা বাতিল করে কিন্তু সার্টিফায়েড কপি দিতে টালবাহানা করছেন বলেও তার অভিযোগ। জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়েছে।

নিজ দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল হওয়ায় এই আসনে ২০ দলীয় জোট থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের আসন-২৩, রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. গোলাম রব্বানীর মনোনয়ন পত্রটি বাছাইয়ের পর তা বাতিল করায় আবেদনের সাড়ে ৮ ঘণ্টা পরও এর সার্টিফায়েড কপি না পেয়ে গোলাম রব্বানী আজ ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট আইনি প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন জানান।

তিনি তার আবেদনে বলেন, ‘২৮ ডিসেম্বর রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে তা গৃহীত হয় এবং নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারকে মনোনয়নপত্রটি জমা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়নপত্রটি গ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ৫ ডিসেম্বর আমার প্রস্তাবক, সমর্থক ও একজন আইনজীবী মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং অফিসার এর কাছে জমা দেন। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সকাল ১০.০০ টায় আমার মনোনয়ন পত্র বাছাই এর সময় নির্ধারিত হয়। আমার প্রস্তাবক, সমর্থক ও একজন আইনজীবী সেখানে উপস্থিত হন। বাছাই এর পর রিটার্নিং অফিসার আমার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন।’

গোলাম রব্বানী অভিযোগ করেছেন, ‘আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের আদেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিলের জন্য বলা হয়েছে। এ কারণে আমার আবেদনপত্র বাতিল করার পরপরই ৬ ডিসেম্বর আমার আইনজীবী রিটার্নিং অফিসারের আদেশের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত আমাকে সার্টিফাইড কপি সরবরাহ করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের এই দায়িত্বহীন ভূমিকার কারণে  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল  আবেদন পেশ করতে না পারার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ।’

তার অভিযোগ, তিনি যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে না পারেন সেজন্য  রিটার্নিং অফিসার ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করেন। তাকে যথাসময়ে আপিল করতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে রিটার্নিং অফিসার আইন, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিধি লঙ্ঘন করেছেন। একইসঙ্গে ওই রিটার্নিং অফিসার সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে আদালত অবমাননা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে রিটার্নিং অফিসারের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন রংপুর-৫ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানী।

/টিএন/

x