গত বছর বিএনপি পরিবার ভালো ছিল না: মোশাররফ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:২৯ , এপ্রিল ১৪ , ২০১৯

নয়াপল্টনে জাসাসের অনুষ্ঠানের আগে বক্তব্য দেন খন্দকার মোশাররফ হোসেনগত বাংলা বছরে বিএনপি পরিবার ভালো ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা ভালো ছিলাম না। ভালো কাটেনি আমাদের। অত্যন্ত বেদনার মধ্যে ছিলাম। বিএনপি পরিবার গত এক বছর খালেদা জিয়াকে সামনে পায়নি।’

রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির দলীয় সংগীত 'প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ' গানটি পরিবেশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাসাস শিল্পীরা ভাটিয়ালি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় দলটির ১৪২৬ বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ভাটা পড়েছে। নববর্ষ উদযাপনে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। প্রতি বছর জাসাসের এ অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলেও কারাবন্দি থাকায় এবার ও গতবার তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির পরিবারসহ সারা দেশের মানুষ আজ ভালো নেই উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, ‘এই বর্ষবরণের দিন সবাই বিক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত। প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া এ দেশের একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে নতুন বছরকে বরণ করতে পারছেন না। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের আমাদের এ প্রতিবাদ বৈশাখী।’
বক্তব্যের শুরুতে বিএনপি, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান মোশাররফ হোসেন।
মোশাররফ বলেন, ‘নতুন বছরে সবার প্রত্যাশা থাকে বিগত বছরের সব গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরে সুখ-সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে। আমরা বিএনপি পরিবারও বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে দিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ চায়। জনগণের সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। কিন্তু আজকে প্রকৃত অবস্থা কী। বিগত বছরের কি এমন একটি ঘটনা আছে, যা গর্বের বলে ধরে নিতে পারি?। বিগত বছরের সব ঘটনা গ্লানিময়, সব ঘটনা জাতীয় জীবনে অস্বাভাবিক ও বেদনাদায়ক। বলে শেষ করা যাবে না, গত বছরটি আমরা কীভাবে কাটিয়েছি।’
গত বছর দেশের মানুষ গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগারে রেখে গণতন্ত্র মুক্ত থাকতে পারে না। তার প্রমাণ আমরা দেখেছি ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার আগের রাতে ডাকাতি করে কড়ে নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র সেই দিন আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি হয়ে গিয়েছিল। গত বছর এ দেশের মানুষ সত্য ও সাহসের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।’
মোশাররফ বলেন, ‘বিগত সময়ে হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় লাখো নেতাকর্মীকে কারাগারে যেতে হয়েছে। ব্যাংক, রির্জাভ ও শেয়ারবাজার লুট হয়েছিল।’
ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো নতুন বছরে আর কোনও নেতা গুম হবে না বলে প্রত্যাশা করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নুসরাত, তনু, সাগর-রুনির মতো কেউ অকালমৃত্যুর স্বীকার হবে না। এখন সারাদেশে যে একটা কারাগারে পরিণত হয়েছে, নতুন বছরে আমরা তা থেকে মুক্তি চাই।’
নতুন বছরে বিএনপি দেশের অধিকার হারা জনগণকে মুক্ত করতে চায় বলে উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আগামী বছর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বছর। আইনি লড়াইয়ে প্রায় ১৬ মাস পার করলে তিনি মুক্তি পাননি। কোনও স্বৈর সরকার তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে কখনও এমনিতেই মুক্তি দেয় না। ইতিহাসও তা বলে না। তাই আমাদের নেত্রীকে আমাদেরই মুক্ত করতে হবে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এদেশে আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, আর মুক্ত করেছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। ফলে বিএনপির পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করা। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপি তৃতীয়বারের মতো সেই দায়িত্ব পালন করবে।’
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— জাসাসের সভাপতি ড. মামুন আহমেদ, বিএনপির চেয়ারপারসেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালে প্রিন্স প্রমুখ।

 

 

/এএইচআর/আইএ/

x