খালেদা জিয়া নির্ভীক ও সৎ লোক তৈরি করতে পারেননি: গয়েশ্বর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৫:২৯ , এপ্রিল ১৯ , ২০১৯

‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলে নির্ভীক, সৎ ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার একটা ব্যর্থতা আছে, যা আমি আগেও একদিন তাকে বলেছিলাম। আজকেও বলতে চাই। তা হলো, তিনি তার চারপাশে নির্ভীক, সৎ, সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। এ কারণে আমরা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছি। আর সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল)  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে শত নাগরিক কমিটি’। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা বলছেন, এলাকার মানুষের চাপ আছে শপথ নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু শুনতে চেয়েছিলাম, তারা বলবেন খালেদা জিয়া আগে মুক্ত হবেন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত হলে সংসদে যাওয়ার বিষয় বিবেচনা করবো।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবকে নানা আত্মসমালোচনায় পরিণত করেন দলটির নেতারা। পাশাপাশি তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সফলতাগুলো তুলে ধরেন। কেউ কেউ দলের নেতৃত্ব থেকে বৃদ্ধদের সরিয়ে দিয়ে তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করারও পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দলের বুদ্ধিজীবীরা বলেছেন, লন্ডন থেকে আদেশ দিয়ে নয়, বিএনপি নেতাদের স্বাধীনভাবে দল চালাতে দিতে হবে।

নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না
বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সামনে রেখেই দলের স্থায়ী কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচিতরা কেউ শপথ নেবেন না এটা তাদের জানিয়েও দেওয়া হবে। ফলে এখান থেকে ফিরে যাওয়া বা পরিবর্তনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এই বিষয়টি এখানে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া দরকার।
তিনি বলেন, আমরা অনেকে হতাশ হয়ে যাই। বলি, দেশে তো আরও কোনও রাজনীতি নেই। সরকার দেশে বিরোধী দল রাখতে চায় না। তারপরও আমাদের মহাসচিব প্রতিদিন কিছু না কিছু বলে জানান দেন আমরা বিরোধী দল আছি। সরকারের নির্যাতন ও অত্যাচার বিএনপিকে আরও মুজবত করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আগামী ১০০ বছরেও বিএনপির কিছু হবে না।

লন্ডন থেকে নয়, স্থানীয় আদেশে দল চালাতে হবে
অনুষ্ঠানে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে বিএনপির যেসব নেতা আছেন তারা কি নিজেদের মতো করে চলতে পারছেন, নাকি তাদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষমতা দিতে হবে দল চালানোর জন্য। লন্ডন-আমেরিকা থেকে আদেশে দল চালানো যাবে না। স্থানীয় আদেশে দল চালাতে দিতে হবে।

৯০-এর ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আনতে হবে
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আমাদের মতো বয়স্কদের দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ৯০-এর ছাত্রনেতা ও তরুণদের দলের নেতৃত্বে এনে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কবে থেকে আন্দোলন হবে সেই সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে নিতে হবে।

হতাশার কথা বলবেন না: মির্জা ফখরুল
এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা হতাশ হবেন না। হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। যারা বলে নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে আমি একমত নয়।’ বিএনপি প্রতিটি সংকট মুহূর্তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের দল। এটা আমাদের বারবার মনে করতে হবে। বারবার চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপিকে ভেঙে ফেলার। এবারও খালেদা জিয়া একটি মাত্র কারণে কারাগারে। তা হলো বিএনপিকে নিঃশেষ, রাজনীতিকে ধ্বংস এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু এটি সম্ভব হবে না। কারণ, এই দল ও তার রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য। তাই কখনও হতাশ হবেন না। হতাশার কথা বলবেনও না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেত্রী যেখানেই থাকুন, জেলে বা বাইরে থাকুন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন।’ খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি এত অসুস্থ যে বলে বোঝানো যাবে না। নববর্ষের দিন আমরা তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি এখন হুইলচেয়ার ছাড়া হাটঁতেও পারেন না। বিছানা থেকে ওঠার জন্য তাকে সাহায্য নিতে হয়। তারপরও তিনি এতটুকুও মনোবল হারাননি। এই মনোবল আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। তরুণ ও যুবকদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। সেই মনোবল নিয়ে গণতন্ত্র ও দেশমাতাকে মুক্ত করতে হবে আমাদের। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় তার পুরোটা হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অবদান খালেদা জিয়ার।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইটি সম্পাদনা করেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আব্দুল হাই শিকদার। তারাসহ মোট ১২ জন বইটি লেখেন। বইটি প্রকাশ করে বুক এভিনিউ। দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার টাকা। ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে শিক্ষার প্রসার, ভিশন-২০৩০, ১/১১ সরকারের সময়ের বিভিন্ন বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
বইয়ের লেখক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘আজকের প্রকাশনা উৎসব প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এই বইয়ের নাম খালেদা জিয়া নিজে পছন্দ করে দিয়েছেন। আমরা বেশক’টি নাম নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে তিনি এই নামটি পছন্দ করেন।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

/এএইচআর /ওআর/এমওএফ/

x