আজ-কালের মধ্যেই ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার তদন্ত প্রতিবেদন

ঢাবি প্রতিনিধি ১৯:৪৫ , মে ১৫ , ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা

ছাত্রলীগের ‘পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। আজ বুধবার (১৫ মে) রাতে অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই তদন্তের প্রতিবেদন দফতর সেলে জমা দেবে তদন্ত কমিটি। এর আগে এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার দিন হতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

এদিকে, হামলার নেতৃত্বকারীদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই তদন্ত কমিটির প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবি, তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুহাদ হোসেন শাহাদাত, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন।

আল নাহিয়ান খান জয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত সময় পাচ্ছি।’
কীভাবে তদন্তের কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন এরকম পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং যেসব সাংবাদিক ছিলেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। আর যারা ভুক্তভোগী তাদের বক্তব্য নেবো। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে যেসব কর্মচারী রয়েছে তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। এভাবে যারা ঘটনা দেখেছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। যাতে আসল ঘটনাটি বের হয়ে আসে। আমাদের তদন্তের কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে। আমরা নিদির্ষ্ট সময়ে প্রতিবেদন দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আজ (বুধবার) রাতে অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো বলে আশা রাখছি।’

হামলাকারীদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল নাহিয়ান খান জয় আরও বলেন, ‘এমন অভিযোগ আমি শুনেছি। কিন্তু সেখানে তো আমরা কেউ ছিলাম না। এখন, কী কারণে এমন অভিযোগের কথা বলছে তা বুঝতে পারছি না। তবে, তারা যদি প্রমাণ দিতে পারে যে তদন্ত কমিটির কেউ সেখানে ছিল তাহলে তাদের কথা বিবেচনা করা হবে।’

এ বিষয়ে হামলার শিকার ও গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নব-নির্বাচিত অধিকাংশ নেতাকর্মী সেখানে ছিলো। সবাই শুধু দাঁড়িয়ে দেখছে। আর শোভন-রাব্বানীর নির্দেশেই তো তাদের অনুসারীরা হামলা করছে। তদন্ত কমিটিতে যারা আছে তারাও ঘটনার আশেপাশেই ছিল। যাদেরকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে তারা সবাই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুগত। আমাদের পক্ষের কেউ তদন্ত কমিটিতে নেই।’
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে গত ১৩ মে সোমবার ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতরা আন্দোলনে নামেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে পদপ্রাপ্তদের বাধার মুখে পড়েন। এসময় কয়েকজন হামলারও শিকার হন। এদিকে, আজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গণভবনে ডেকে নিয়ে বিতর্কিতদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

/এসআইআর/টিএন/

x