খালেদা জিয়ার সুবিধার্থেই কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত স্থাপন: হাছান মাহমুদ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০৫:২৩ , মে ২৩ , ২০১৯

হাছান মাহমুদ (ফাইল ছবি)

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনায় কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত স্থাপনের সঙ্গে সাংবিধানিক কোনও প্রসঙ্গ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক কষ্ট লাঘব করার জন্যই কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়েছে।’

বুধবার (২২ মে) প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সেমিনার হলে ‘পিআইবি-এটুআই গণমাধ্যম পুরস্কার-২০১৯’ প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটা নিয়ে তো বিএনপির খুশি হওয়ার কথা। কারণ, খালেদা জিয়াকে বারবার কারাগার থেকে আদালতে আসতে হবে না। তার শারীরিক কষ্ট হবে না। তার শারীরিক কষ্ট লাঘব করার জন্যই তো কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, নিরাপত্তারও একটি বিষয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনের সঙ্গে সাংবিধানিক কোনও প্রসঙ্গ নেই। এটা সাংবিধানিক কোনও বিষয়ও নয়। এটি প্রশাসনিক বিষয়। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে আইন-আদালতকে সহযোগিতা করা। আইন ও বিধান অনুযায়ী কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপন করা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার জন্যই আদালত বসানো হয়েছে। একইসঙ্গে এটি খালেদা জিয়ার সহায়তার জন্য বসানো হয়েছে। বিএনপি বারবার অভিযোগ করছে, জনগণকে বলছে, খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ। কিন্তু তার যেসব শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, সেগুলো অনেক পুরনো। এই সমস্যা নিয়ে তিনি দু’বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, বিরোধী দলের নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং, তার সুবিধার্থেই কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপন করা হয়েছে। আদালত স্থাপন করা এক কথা, আরেকটি হচ্ছে বিচার কার্যক্রম। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারান্তে কী করবেন, সেটি বিচারকের বিষয়। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বিচার কার্যক্রমকে সহায়তা করা।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক দলের চাওয়া-পাওয়ার বিষয় থাকতে পারে না। আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আদালতের সুবিধার বিষয়টি হচ্ছে মুখ্য। একইসঙ্গে যিনি আসামি তার সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই হয়তো সেখানে আদালত স্থাপন করা হয়েছে।’

শ্রমিক আন্দোলনে টাকা দেওয়া নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘অতীতে বিএনপি নিজেরাই অনেক নাশকতা করেছে। বাংলাদেশের মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করেছে। এখন তো নিজেদের আন্দোলন করার কোনও সামর্থ্য নেই। তাই অন্যরা যখন আন্দোলন করে, সেখানে তারা টাকা-পয়সা দিয়ে সেটিকে বিভ্রান্ত করার জন্য, নাশকতা করার জন্য চেষ্টা চালায়। এটা আমরা অতীতে বহুবার বলেছি। তাদের এ ধরনের কার্যক্রম অতীতেও বহুবার ফাঁস হয়েছে।’

পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী প্রমুখ।

/এসও/এমএ/এপিএইচ/এমওএফ/

x